বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন উদ্যোগ: অধিনায়কদের জন্য ‘ক্যাপ্টেন্স কার্ড’ চালু
২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে বাবা হিসেবে উল্লেখ করে কোটায় সরকারি চাকরি নেওয়ার অভিযোগে নওগাঁর আত্রাইয়ের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামাল হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন নিয়ে আদালতে হাজির হলে তার আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বুধবার এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
দুদক সূত্রে জানা যায়, কামাল হোসেন নিজের প্রকৃত বাবা-মায়ের পরিবর্তে চাচা মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব ও চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে বাবা-মা হিসেবে উল্লেখ করে মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নেন। এ অভিযোগে দুদক ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে মামলা করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলাম মিন্টু অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন। তদন্তের অংশ হিসেবে কামাল হোসেন, চাকরির কাগজপত্রে উল্লেখ করা বাবা-মা এবং অনুসন্ধানে পাওয়া প্রকৃত বাবা-মায়ের ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ডিএনএ পরীক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি এর আগে আদালত থেকে জামিন নিয়েছিলেন।
বুধবার ছিল তার জামিনের শেষ দিন এবং একই দিনে ডিএনএ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনের শুনানিতে আদালত জানতে চান, ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে কি না। তিনি পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয়নি বলে জানান। এরপর আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
দুদক জানিয়েছে, আদালতের অনুমতি নিয়ে কামাল হোসেনকে দ্রুত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করানো হবে। একই সঙ্গে তার চাকরির নথিতে উল্লেখ করা বাবা-মা এবং অনুসন্ধানে পাওয়া প্রকৃত বাবা-মায়েরও ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। প্রকৃত বাবা-মাকে দালিলিকভাবে চিহ্নিত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে। এ ঘটনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কামাল হোসেনকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করেছে।
দুদক জানায়, কামাল হোসেন ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি নেন। একই কোটার সুবিধা ব্যবহার করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, কামাল হোসেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সিরাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি এবং ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার সময় প্রকৃত বাবা মো. আবুল কাশেম ও মা মোছা. হাবিয়া খাতুনের নাম ব্যবহার করেন। পরে নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশনের সময় চাচা ও চাচির নাম বাবা-মা হিসেবে উল্লেখ করেন।
এরপর এসএসসি, এইচএসসি এবং বিভিন্ন উচ্চতর ডিগ্রি পরীক্ষার রেকর্ড, জন্মসনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রেও একইভাবে চাচা-চাচির নাম বাবা-মা হিসেবে ব্যবহার করে জালিয়াতি করেন বলে দুদকের অভিযোগ।