শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টা: শুটার ফয়সালের বাবা-মায়ের স্বীকারোক্তি, কারাগারে প্রেরণ


ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের বাবা-মা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হামলার পর আসামিদের পালাতে ও অস্ত্র লুকাতে সহযোগিতা করার কথা স্বীকার করেন।

১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ 

শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টা: শুটার ফয়সালের বাবা-মায়ের স্বীকারোক্তি, কারাগারে প্রেরণ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০) ও মা মোছা. হাসি বেগম (৬০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারকের খাসকামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দিতে তারা স্বীকার করেন, হামলার পর আসামিদের পালিয়ে যেতে এবং অস্ত্র ও আলামত লুকাতে তারা সহযোগিতা করেছেন। জবানবন্দি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।এর আগে বিকেলে র‌্যাব-১০ এর পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারকৃত ফয়সালের বাবা-মাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে বিচারকের নির্দেশে তাদের খাসকামরায় নেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১০। পরে তাদের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

র‌্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ফয়সাল করিম মাসুদ চার সন্তানের মধ্যে তৃতীয়। তিনি প্রায়ই রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় তার বোন জেসমিন আক্তারের সপ্তম তলার বাসায় যাতায়াত করতেন। ঘটনার দিন রাতে ফয়সাল একটি ব্যাগ নিয়ে ওই বাসায় যান। পরে তিনি বাসার চিপা দিয়ে কালো ব্যাগটি ফেলে দেন এবং ভাগনে জামিলকে (১৮) দিয়ে সেটি আবার তুলে আনেন।এছাড়া নিজের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনের একটি ওই বাসার ছাদ থেকে ফেলে দেন এবং অন্যটি তার মা হাসি বেগমের কাছে রেখে যান। পরে বাবা-মার সঙ্গে দেখা করে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করায় আগারগাঁও থেকে মিরপুর হয়ে শাহজাদপুরে তার বাবার ভাতিজা আরিফের বাসায় যান। এ সময় তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির একটি সিএনজি ভাড়া করে দেন এবং কিছু টাকা প্রদান করেন।পরবর্তীতে তারা কেরানীগঞ্জে ছোট ছেলে হাসান মাহমুদ বাবলু ওরফে রাজের বাসায় অবস্থান করেন এবং জুরাইন এলাকা থেকে দুটি নতুন মোবাইল সিম কিনে ব্যবহার করেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডের বিজয়নগর এলাকায় শরিফ ওসমান হাদি রিকশাযোগে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলযোগে আসা দুইজনের একজন তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। গুলিতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান (প্রধান শুটার) এবং আলমগীর হোসেন (মোটরসাইকেল চালক)–কে শনাক্ত করে।এরই মধ্যে ফয়সাল করিমের স্ত্রী, প্রেমিকা ও শ্যালককে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিকানা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কবির। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামানের আদালত কবিরের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া মূল অভিযুক্ত ফয়সালকে পালাতে গাড়ি দিয়ে সহায়তাকারী মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বলকেও আদালত তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।