প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত: ববি হাজ্জাজ
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ
কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় অবশেষে অগ্রগতির আভাস মিলেছে। মামলা দায়েরের ১০ বছর পর প্রথমবারের মতো একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি হলেন সেনাবাহিনীর সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান। পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা, পরিদর্শক (ঢাকা) তরিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন বুধবার বিকেলে তাকে কুমিল্লা আদালতে হাজির করা হলে কুমিল্লা সদর আদালত-১ এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুমিনুল হক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। যদিও তদন্ত সংস্থা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল। তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এখনো সেটির ম্যাচিং করা হয়নি। তদন্তের স্বার্থে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
এদিকে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গ্রেপ্তারের ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তনুর পরিবার। তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, “প্রায় ১১ বছর পর একজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। আমি সন্তুষ্ট। আমি চাই তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হোক।”
তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, “দেশের মানুষ জানতে চায়, তনু হত্যার বিচার হবে কি না। এখন অন্তত বলতে পারব, আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। আমরা আদালতের ওপর আস্থা রাখছি।”
এর আগে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল আদালত তনু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনজন সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তনুর ব্যবহৃত কিছু কাপড় থেকে আগে তিনজনের ডিএনএ প্রোফাইল সংগ্রহ করা হয়েছিল, তবে তা এতদিন ম্যাচিং করা হয়নি। আদালতের নির্দেশে সেই প্রক্রিয়া এখন এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছে একটি জঙ্গলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি শুরুতে থানা-পুলিশ, পরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করলেও দীর্ঘদিনেও রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। সর্বশেষ ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ সময়ের জটিলতা কাটিয়ে প্রথম গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।