বিসিবির নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল, ৩ মাসের অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
সড়ক পরিবহন খাতকে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও শৃঙ্খলাপূর্ণ রাখতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করে যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের অভিযান। এরই অংশ হিসেবে আজ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিআরটিএ’র মোবাইল কোর্ট ও ট্রাফিক বিভাগের সমন্বয়ে গতকাল ২৫ সেপ্টেম্বর পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ফিটনেসবিহীন ও কালো ধোঁয়া নির্গতকারী মোট সাতটি বাস জব্দ করে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে প্রেরণ করা হয়েছে।
এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয় বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান জনাব আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ এর সরাসরি নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে, এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সার্বিক সহায়তায়। সড়কে চলাচলরত গণপরিবহনগুলোর মধ্যে যেসব বাসের ফিটনেসের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে অথবা যেগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর মাত্রায় কালো ধোঁয়া নির্গত করছিল, সেসব যানবাহনকে আইনের আওতায় এনে আটক করা হয়।
অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্ট পরিবহন কোম্পানিগুলোর ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে যথাযথ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রাথমিকভাবে যে সাতটি বাসের বৈধ ফিটনেস সার্টিফিকেট ছিল না বা যারা পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী বলে প্রমাণিত হয়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেগুলো বিআরটিএ’র মোবাইল কোর্টের নির্দেশে ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানো হয়।
আটককৃত বাসগুলোর বিস্তারিত তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ঢাকা মেট্রো ব-১৩-১০৭৫ (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে)
২. ঢাকা মেট্রো ব-১৩-০৬৩৮ (ওয়েলকাম পরিবহন)
৩. ঢাকা মেট্রো ব-১৫-৪০৬৬ (ট্রান্স সিলভা পরিবহন)
৪. ঢাকা মেট্রো ব-১১-৯০৭৯ (ভিআইপি পরিবহন)
৫. ঢাকা মেট্রো ব-১৫-৩৫২১ (প্রজাপতি পরিবহন)
৬. ঢাকা মেট্রো ব-১২-০০৪০ (গাবতলী এক্সপ্রেস)
৭. ঢাকা মেট্রো ব-১৫-৬৫৩৯ (রাজধানী পরিবহন)
বিআরটিএ’র বক্তব্য
বিআরটিএ’র এক কর্মকর্তা জানান, “আমাদের এই অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা চাই জনগণ একটি নিরাপদ, আরামদায়ক ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থার সুফল ভোগ করুক। যারা নিয়ম মানছে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বাস মালিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে—ফিটনেস নবায়নসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ রেখে যানবাহন পরিচালনা করুন। অন্যথায়, ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
সচেতন নাগরিক প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পাথওয়ে'র নির্বাহী পরিচালক মোঃ শাহিন বলেন, “হাইওয়েতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং বেপরোয়া গতিসীমা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে তা একান্তই কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হবে। এমন উদ্যোগ জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি একটি নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও চলমান অভিযান
বিআরটিএ জানিয়েছে, রাজধানীর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলা ও মহানগর এলাকায়ও পর্যায়ক্রমে এ ধরনের অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের জন্য এ ধরনের কার্যক্রমকে নিয়মিত রূপ দেওয়া হবে।
সড়ক পরিবহন খাতে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিআরটিএ ও সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রাজধানীতে প্রতিদিন হাজার হাজার বাস চলাচল করে। এর মধ্যে একটি বড় অংশের ফিটনেস সনদ নবায়ন না থাকায় সেগুলো জনসাধারণের জন্য যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি শহরের পরিবেশের উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই এমন অভিযানে শুধু বাস চালকদেরই নয়, যাত্রী সাধারণেরও সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।