বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

ঢাকার পানি দূষণ রোধে ৩৭০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক


ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ৩৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। ‘মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ কর্মসূচির আওতায় নদী ও খালের দূষণ কমিয়ে স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনাই প্রকল্পটির প্রধান লক্ষ্য।

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ণ 

ঢাকার পানি দূষণ রোধে ৩৭০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ঢাকা মহানগরী ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার পানি দূষণ রোধ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ৩৭০ মিলিয়ন বা ৩৭ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাহী পরিচালকদের সভায় এ অর্থায়ন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ‘মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ শীর্ষক এই কর্মসূচির আওতায় ঢাকার বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো ঢাকার নদী ও খালের পানি দূষণ কমিয়ে সেগুলোর নাব্যতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার করা। এর মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা এবং ৫ লাখ মানুষ উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় আসবেন। বিশেষ করে দূষণপ্রবণ ও সেবাবঞ্চিত এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর জঁ পেসমে বলেন, ঢাকার জলাশয়গুলো কোটি মানুষের জীবনরেখা। কিন্তু দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে, যা জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই প্রকল্প ঢাকার নদী ও খালের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি করবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে ঢাকার মাত্র ২০ শতাংশ বাসিন্দা পাইপযুক্ত স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছেন। অন্যদিকে ৮০ শতাংশের বেশি অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য সরাসরি শহরের জলাশয় ও নদীতে গিয়ে পড়ছে। এছাড়া ঢাকার অর্ধেকের বেশি খাল বিলীন বা বর্জ্যে ভরাট হয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের মোট রফতানিমুখী পোশাক কারখানার প্রায় ৮০ শতাংশ ঢাকা ও আশপাশে অবস্থিত। প্রায় ৭ হাজার কারখানা প্রতিদিন ২ হাজার ৪০০ মিলিয়ন লিটার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলছে। এর ফলে চর্মরোগ, ডায়রিয়া ও বিভিন্ন স্নায়বিক সমস্যার প্রকোপ বাড়ছে। প্রকল্পের আওতায় বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে শিল্পবর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন ও পানির পুনঃব্যবহার বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ওয়াটার স্পেশালিস্ট ও টাস্ক টিম লিডার হর্ষ গোয়েল জানান, এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। প্রথম ধাপে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের নির্দিষ্ট এলাকায় কার্যক্রম শুরু হবে। নদীর পানি পরীক্ষার জন্য ‘ডিজিটাল রিয়েল-টাইম মনিটরিং’ ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং সমন্বিত নদী পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

এছাড়া প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, রিসাইক্লিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরাসরি নদী বা ড্রেনে বর্জ্য ফেলার প্রবণতা কমানো হবে বলে জানানো হয়েছে।