বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

রপ্তানি আয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত, জানুয়ারিতে ১১.২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি


বিশ্ব অর্থনীতির নানা অনিশ্চয়তা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে দেশের রপ্তানি আয়ে আগের মাসের তুলনায় ১১.২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।

২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ 

রপ্তানি আয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত, জানুয়ারিতে ১১.২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে দেশের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪১৩ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। আগের মাস ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এই আয় ছিল ৩ হাজার ৯৬৮ দশমিক ২৮ মিলিয়ন ডলার। মাসিক হিসেবে এ প্রবৃদ্ধিকে রপ্তানি খাতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি মেয়াদে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ২৮ হাজার ৪১০ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার। যদিও এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের ২৮ হাজার ৯৬৯ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় সামান্য কম, তবে সাম্প্রতিক মাসিক প্রবৃদ্ধি রপ্তানি খাতে স্থিতিশীলতা ফেরার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত তার শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ২২ হাজার ৯৮০ দশমিক ২০ মিলিয়ন ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পোশাকের স্থায়ী চাহিদা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাই এ প্রবৃদ্ধির মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্লাস্টিক পণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতেও মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। তবে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য এবং হিমায়িত মাছসহ কয়েকটি খাতে মিশ্র ফলাফল দেখা গেছে।

রপ্তানি গন্তব্য বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে তার অবস্থান বজায় রেখেছে। দেশটিতে জুলাই-জানুয়ারি সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ৫ হাজার ২১৬ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ডলার। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং জানুয়ারি মাসে মাসিক ভিত্তিতে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

জার্মানি ও যুক্তরাজ্য যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। জার্মানিতে রপ্তানি আয় হয়েছে ২ হাজার ৮৫২ দশমিক ২০ মিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাজ্যে ২ হাজার ৭৭৯ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার।

এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাজার- স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও গ্রেট ব্রিটেনসহ একাধিক দেশে বিভিন্ন সময়সীমায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে। এতে প্রধান বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।