বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬

তিন বছরের বেশি সময় পর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়াল ৩৩ বিলিয়ন ডলার


দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় পর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি নীতিগত পরিবর্তনের ফলে রিজার্ভের এই ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

১ জানুয়ারী ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ 

তিন বছরের বেশি সময় পর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়াল ৩৩ বিলিয়ন ডলার
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

তিন বছরের বেশি সময় পর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। অর্থবছর ২০২১-২২ এর পর এই প্রথম রিজার্ভ এই মাত্রায় পৌঁছাল। এতে দেশের আমদানি ব্যয় পরিশোধের সক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নির্ধারিত পদ্ধতিতে হিসাব করা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারে। এক সপ্তাহ আগের তুলনায় এই অঙ্ক বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে বাংলাদেশ পাঁচ মাসেরও বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটাতে পারবে। বর্তমানে দেশের মাসিক আমদানি ব্যয় ৫ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। সে হিসাবে বর্তমান রিজার্ভ দেশের বৈদেশিক লেনদেন ও আন্তর্জাতিক পরিশোধ সক্ষমতার ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।

২০২১ সালের আগস্টে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। এরপর থেকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও রেমিট্যান্স প্রবাহে ধীরগতির কারণে রিজার্ভ কমতে থাকে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের মে মাসে দেশের মোট ডলার মজুত নেমে আসে ২৪ বিলিয়ন ডলারে। তখন আমদানি বিল, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও অন্যান্য দায় পরিশোধ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রবাসী আয় বাড়তে থাকে, যা ধীরে ধীরে রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

টাকার মান ধরে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ডলার বিক্রি করলেও চলতি অর্থবছরের শুরুতে নীতি পরিবর্তন করা হয়। ২০২৫–২৬ অর্থবছর থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনতে শুরু করে। ডলারের অতিরিক্ত শক্তি কমানো ও বাজারে ভারসাম্য আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে রিজার্ভের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।

২০২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে রপ্তানি আয়ও কিছুটা বেড়েছে। যদিও আমদানিও বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে তা নিয়ন্ত্রিত গতিতে।

বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি ব্যবস্থাপনায় কড়াকড়ি থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে এই ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়েছে।