শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬

উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেই নীতি সুদহার কমাল বাংলাদেশ ব্যাংক


উচ্চ মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকলেও প্রধান নীতি সুদহার (রেপো রেট) ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী রোববার থেকে রেপো রেট ১০ শতাংশের পরিবর্তে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে।

৩১ জুলাই ২০২৬, ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ 

উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেই নীতি সুদহার কমাল বাংলাদেশ ব্যাংক
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেই প্রধান নীতি সুদহার বা রেপো রেট ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে আগামী রোববার থেকে রেপো রেট ১০ শতাংশের পরিবর্তে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ হবে। একই সঙ্গে আন্তঃব্যাংক ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার বা স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) সুদহার ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে রেপো রেট ১০ শতাংশে স্থির ছিল। এমন সময়ে সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত এলো, যখন দেশে মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশে, যা মে মাসে ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং এপ্রিলে ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের শেষে গড় মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে আগের অর্থবছরেও একই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জিত হয়নি। সাধারণত উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নীতি সুদহার উচ্চ পর্যায়ে রাখে।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুরের পরিবর্তে মো. মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি নীতি সুদহার পুনর্বিবেচনায় মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠক আহ্বান করেছিলেন। তবে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে সেই বৈঠক স্থগিত করা হয়।

এরপর গত ৩০ জুন চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। তবে এক মাসের ব্যবধানে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর দায়িত্বে থাকাকালে বলেছিলেন, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না নামা পর্যন্ত নীতি সুদহার কমানো হবে না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেন, এই পরিস্থিতিতে তিনি গভর্নর থাকলে সুদহার ১২ শতাংশে উন্নীত করতেন।

সুদহার কমানোর কারণ ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মুদ্রানীতি কমিটি অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি, দেশীয় বিনিয়োগ, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কামাল মুজেরী, বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ফিরদৌসি নাহার, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আকতার হোসেন এবং নির্বাহী পরিচালক ড. ইমাম আবু সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে চলতি মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাও কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ, যেখানে আগের মুদ্রানীতিতে জুন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। যদিও চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এ ছাড়া কম সুদে ঋণ বিতরণের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার কথাও জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।