বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৬ শতাংশ বৃদ্ধি


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী সাময়িক যুদ্ধবিরতি সমাপ্তির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা ও নতুন করে সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। বুধবার (৮ জুলাই) মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

৮ জুলাই ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ 

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৬ শতাংশ বৃদ্ধি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনীতিতে চরম উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি 'ভেঙে গেছে'। তুরস্কের আঙ্কারায় চলমান ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট জানান, তেহরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা করা স্রেফ 'সময়ের অপচয়'।

ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের পর বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক তেল বাজারে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।  বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৫৭ ডলার বা ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ দশমিক ৭৩ ডলারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার পরিমাপক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ২৩ ডলার বা ৬ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৪ দশমিক ৬৭ ডলারে উঠেছে। উভয় ধরনের তেলের দামই গত ২২ জুনের পর এখন সর্বোচ্চ।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গত মঙ্গলবার থেকেই বাজারে এই অস্থিরতার আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। ওমান উপকূলের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রশাসন ইরানের তেল বিক্রির বিশেষ ছাড় বা 'সাধারণ লাইসেন্স' বাতিল করার পর মঙ্গলবারও তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছিল। বুধবার ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাতিলের পর সেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও ত্বরান্বিত হয়।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই সংকট আরও ঘনীভূত হয় এবং পারস্য উপসাগরের জ্বালানি পরিবহন পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, তবে আগামী দিনগুলোতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও রেকর্ড পরিমাণ বাড়তে পারে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক শেয়ার বাজারগুলোতেও।