আগামীকাল ব্যাংক হলিডে: বন্ধ থাকবে ব্যাংক ও শেয়ারবাজারের লেনদেন
২ জুলাই ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
দেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অস্থিরতার মাঝেই যুবকদের জন্য একটি বিশেষায়িত ব্যাংক খোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির নাম রাখা হয়েছে ‘যুব ব্যাংক’। সম্প্রতি জাতীয় একটি দৈনিকের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ৭ মে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের উপস্থিতিতে একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ‘যুব ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাই, ব্যাংকের আর্থিক কাঠামো, প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় আলোচকরা উল্লেখ করেন, প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় জামানত, পূর্ব-অভিজ্ঞতা বা আর্থিক সক্ষমতার অভাবে দেশের বহু সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। এর ফলে অনেক ভালো উদ্যোগ শুরুতেই থমকে যায়।
এই সংকট দূর করতে একটি যুববান্ধব বিশেষায়িত ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এই ব্যাংকটি মূলত:তরুণদের সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ দেবে।স্টার্টআপ ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরিতে আর্থিক সহায়তা করবে।যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ পরিচালনায় মেন্টরশিপ প্রদান করবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম এই উদ্যোগের বিষয়ে বলেন,"আমরা বর্তমানেও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত তরুণদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘সিড ফাইন্যান্সিং’ বা প্রাথমিক মূলধন ঋণ দিচ্ছি। এই প্রক্রিয়াটিকে আরও বড় এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতেই একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার আলোচনা চলছে। তবে বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এ বিষয়ে অংশীজনদের পরামর্শ নেওয়া হবে।"
বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকারের তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি বলে মনে করেন নীতিনির্ধারক ও অর্থনীতিবিদরা। এমনকি জাতীয় সংসদেও সম্প্রতি ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে আনার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন আরেকটি ব্যাংক খোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন,"দেশে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বিশেষায়িত ব্যাংক তৈরি করা হয়েছে এবং সেগুলোর নাজুক পরিস্থিতি আমাদের সবার জানা। বিদ্যমান ব্যাংকগুলোকে সংস্কার না করে নতুন ব্যাংক তৈরি করলে অর্থনীতির ওপর কেবল বোঝাই বাড়বে। যুবকদের যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তা বর্তমান ব্যাংকগুলোর মাধ্যমেই দেওয়া সম্ভব।"
উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে ৬২টি তফসিলি ব্যাংক রয়েছে, যার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক ৬টি, বেসরকারি ব্যাংক ৪৩টি, বিদেশি ব্যাংক ৯টি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক রয়েছে ৩টি (বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক)। এর বাইরে কর্মসংস্থান ব্যাংক ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকসহ আরও ৫টি তফসিল-বহির্ভূত বিশেষায়িত ব্যাংক রয়েছে। বর্তমানে এই বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর প্রায় প্রতিটিই মূলধন ঘাটতি ও লোকসানসহ নানা সংকটে জর্জরিত।