২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্তের শীর্ষে ঢাকা
২১ জুন ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
দেশের জনঅর্থায়ন কাঠামোতে পরিবর্তন এনে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাজেট পর্যালোচনা’ সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের উচ্চ সুদে ব্যাংক ঋণ গ্রহণের ফলে বেসরকারি খাতের জন্য অর্থায়ন ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে এবং বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। এ কারণে ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি গত এক দশক ধরে বলে আসছি, সরকারের স্থানীয় ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া উচিত নয়। যখন সরকার ১০ থেকে ১৩ শতাংশ সুদে ঋণ নেয়, তখন বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে যায়। একই সঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, সরকার এত উচ্চ সুদের ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবে।”
এ কারণে সরকার ধাপে ধাপে ব্যাংকনির্ভর ঋণ কমিয়ে বাজারভিত্তিক ও অন্যান্য বিকল্প উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের কৌশল গ্রহণ করছে বলে জানান তিনি।বাজেট প্রণয়নের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, সাধারণত ছয় মাস সময় নিয়ে জাতীয় বাজেট প্রস্তুত করা হলেও বর্তমান সরকারকে মাত্র দেড় মাসের মধ্যে বাজেট চূড়ান্ত করতে হয়েছে। পাশাপাশি আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন বকেয়া দায়ও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বকেয়া বিল রয়েছে, যা সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। এছাড়া আগামী অর্থবছরে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা শুধু ঋণের সুদ ও ঋণসেবা (ডেট সার্ভিসিং) খাতে ব্যয় করতে হবে। ফলে সরকারের উন্নয়ন ও অন্যান্য ব্যয়ের জন্য আর্থিক পরিসর বা ‘ফিসকাল স্পেস’ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। আলোচনায় অংশ নেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র্যাপিড) চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান এবং গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ।