বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

আবগারি শুল্ক ছাড়ের সীমা বেড়ে ৪ লাখ টাকা হচ্ছে


আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য বড় ধরণের স্বস্তির খবর আসছে। ব্যাংক জমা ও উত্তোলনে আবগারি শুল্ক (এক্সাইজ ডিউটি) ছাড়ের বর্তমান সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সাথে ব্যাংক গ্রাহকদের বাড়তি খরচের বোঝা কমাতে একটি ঋণ হিসাবের বিপরীতে একাধিক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা হলেও কেবল একবারই শুল্ক কাটার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত ব্যাংকিং লেনদেনে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত ও স্বস্তি দিতেই সরকারের এই নতুন উদ্যোগ।

১০ জুন ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ 

আবগারি শুল্ক ছাড়ের সীমা বেড়ে ৪ লাখ টাকা হচ্ছে
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

দেশের ব্যাংকিং খাতের সাধারণ আমানতকারী ও ঋণগ্রহীতাদের আর্থিক চাপ কমাতে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ কর ছাড়ের প্রস্তাব করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন বাজেট প্রস্তাব পেশ করবেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংক জমার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়াই এই কর ছাড়ের প্রধান লক্ষ্য। অতীতে ব্যাংক আমানতের ওপর করের বোঝা বেশি থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা ক্রমান্বয়ে শিথিল করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আগ পর্যন্ত দেশের ব্যাংকগুলোতে জমা স্থিতির পরিমাণ মাত্র ১ লাখ টাকা পার হলেই আবগারি শুল্ক কাটার নিয়ম ছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এই কর ছাড়ের সীমা বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা করা হয়েছিল। এবার জনগণের সুবিধার্থে তা আরও এক ধাপ বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করা হচ্ছে। ফলে এখন থেকে ব্যাংকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত স্থিতির ওপর কোনো আবগারি শুল্ক দিতে হবে না।

সাধারণত ব্যাংকগুলো কেবল আমানতের ওপরই আবগারি শুল্ক কাটে না। আমানত, ঋণ কিংবা অন্য যে কোনো ধরনের জমার ভিত্তিতে বছরে একবার এই শুল্ক কেটে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট ঋণ হিসাব পরিচালনার সুবিধার্থে যদি কোনো গ্রাহকের একাধিক লিংক অ্যাকাউন্ট বা সহযোগী অ্যাকাউন্ট খোলা হতো, তবে প্রতিটি অ্যাকাউন্ট থেকেই আলাদা আলাদাভাবে আবগারি শুল্ক কেটে নেওয়া হতো। এতে ঋণগ্রহীতারা বাড়তি আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তেন। আগামী অর্থবছর থেকে এই নিয়মে পরিবর্তন এনে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, একটি ঋণের বিপরীতে যত অ্যাকাউন্টই খোলা হোক না কেন, শুল্ক কাটা হবে মাত্র একবারই।

তবে আবগারি শুল্কের এই ছাড়ের বাইরে আমানতের ওপর অর্জিত মুনাফার ওপর সরকারের বিদ্যমান আলাদা কর ব্যবস্থা বহাল থাকছে। বর্তমানে ব্যাংকে জমানো টাকার মুনাফা বা সুদের ওপর দুই স্তরের কর কাঠামো চালু রয়েছে। যেসব আমানতকারী নিয়মিত আয়কর রিটার্ন জমা দেন এবং তার প্রমাণপত্র (পিএসআর) ব্যাংকে জমা দিতে পারেন, তাদের অর্জিত মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হয়। অন্যদিকে, যাদের রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র নেই, তাদের ক্ষেত্রে এই শুল্কের হার ১৫ শতাংশ। এর বাইরে বরাবরের মতোই ব্যাংকগুলো নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী অ্যাকাউন্ট মেইনটেন্যান্স ফি বা সার্ভিস চার্জসহ বিভিন্ন ধরনের ফি কেটে থাকে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির এই সময়ে আবগারি শুল্কের সীমা ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করা এবং ঋণের অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে একক শুল্ক ব্যবস্থা চালু করার ফলে মধ্যবিত্ত আমানতকারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। এটি ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা রাখার প্রবণতাকেও ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে।