বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপ খেলবেই: আশার বার্তা ফিফা সভাপতি
১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রকাশ্য সমর্থন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার নৈতিক ও আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রেস উইং জানায়, কিছু মহলের দাবি- প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে এই উদ্বেগ আলোচনার যোগ্য হলেও, বাস্তব প্রেক্ষাপটে এর কোনো ভিত্তি নেই।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কেবল দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম বা নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য গঠিত হয়নি। দীর্ঘদিনের অপশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও গণতান্ত্রিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই সরকার গঠিত হয়েছে, যার মূল ম্যান্ডেট হলো রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে একটি বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পথ সুগম করা।
প্রেস উইং জানায়, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত আঠারো মাসে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও তরুণ সমাজের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ ও পরামর্শের মাধ্যমে যে সংস্কার কাঠামো দাঁড় করিয়েছেন, বর্তমান সংস্কার প্যাকেজ তারই ফল। ফলে এই সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে পক্ষপাত নয়; বরং অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীলতারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চায় সরকারপ্রধানদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন নিয়ে গণভোটে নিজস্ব অবস্থান ব্যাখ্যা করা অস্বাভাবিক নয়। গণতন্ত্রে নেতাদের নীরবতা নয়, বরং যুক্তিনির্ভর নেতৃত্ব প্রত্যাশিত। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা জনগণের হাতেই থাকে- এটাই গণভোটের মূল দর্শন।
প্রেস উইং উল্লেখ করে, ভোটাররা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারছেন কি না, বিরোধী পক্ষ প্রচারণার সুযোগ পাচ্ছে কি না এবং পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য কি না- গণতান্ত্রিক বৈধতার প্রকৃত মানদণ্ড এগুলোই। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব শর্ত অক্ষুণ্ণ রয়েছে। বিবৃতিতে বিভিন্ন দেশের উদাহরণ টেনে বলা হয়, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, তুরস্ক, স্কটল্যান্ড ও কিরগিজস্তানের মতো দেশগুলোতে সরকারপ্রধানরা গুরুত্বপূর্ণ গণভোটে প্রকাশ্যে পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এসব ঘটনাকে গণতন্ত্রবিরোধী নয়, বরং রাজনৈতিক জবাবদিহিতার স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছে। এছাড়া জেলা পর্যায়ে সরকারি সম্পৃক্ততা নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে বলা হয়, এসব কার্যক্রমের উদ্দেশ্য কোনো ধরনের জোরজবরদস্তি নয়; বরং সংস্কারের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা, যাতে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তির প্রভাব কমে।
বিবৃতির উপসংহারে বলা হয়, এই সংকটময় সময়ে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নয়, বরং দ্বিধা ও নীরবতা। ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমূলক ম্যান্ডেট, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক নজির এবং ভোটারদের প্রতি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
শেষ পর্যন্ত গণভোটের সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ- এটাই গণতন্ত্রের চূড়ান্ত নিশ্চয়তা বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।