মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আহ্বান


‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাতির উদ্দেশে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট মানেই বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়নমুক্ত নতুন বাংলাদেশের পথে অগ্রসর হওয়া।

১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ 

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আহ্বান
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাতির উদ্দেশে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তার এই ভিডিও বার্তা বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়।

ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রিয় দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন। এটি অপ্রত্যাশিতভাবে জাতির জীবনে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ এনে দিয়েছে।’ তিনি জানান, এই অর্জনের ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে কিছু সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘জুলাই সনদ’।

ড. ইউনূস বলেন, ‘এই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের সম্মতি প্রয়োজন। সে কারণেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।’

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার সুফল তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গণভোটে আপনি ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বাংলাদেশ বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে।’ তিনি জানান, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দল যৌথভাবে কাজ করবে। সরকার ইচ্ছামতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না; গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য জনগণের সম্মতি নিতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদের গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতিরা নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো হবে। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় সংসদে একটি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার আরও সুরক্ষিত করা, রাষ্ট্রভাষা বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি, দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতির ইচ্ছামতো ক্ষমা না করার বিধান এবং সব ক্ষমতা একজন প্রধানমন্ত্রীর হাতে কেন্দ্রীভূত না রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।

ভিডিও বার্তার শেষাংশে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমি আপনাদের সকলের প্রতি আহ্বান জানাই- আগামী নির্বাচনের দিন গণভোটে অংশ নিন। রাষ্ট্রকে আপনার প্রত্যাশামতো গড়ে তোলার জন্য ‘হ্যাঁ’-তে সিল দিন। নতুন বাংলাদেশ গড়ার চাবি এখন আপনার হাতে।’ তিনি সবাইকে নিজে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ার এই ঐতিহাসিক সুযোগ গ্রহণ করব। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।’