নতুন যুগের শুরু • বলিভিয়াকে উড়িয়ে নতুন যুগের সূচনা, নিকো পাজে মুগ্ধ আর্জেন্টিনা
৩ অক্টোবর ২০২৬, ৪:১৩ অপরাহ্ণ
দেশের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার কাজ চলছে। এর আওতায় অনলাইনে সংরক্ষিত তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে অনলাইনে তালাক ও নিকাহ নিবন্ধন সফটওয়্যারের ব্যবহার নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আইনমন্ত্রী বলেন, বিয়ে ও তালাকের তথ্য অনলাইনে সংরক্ষণ করা হলে একজন ব্যক্তির আগের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পর্কে দ্রুত তথ্য যাচাই করা যাবে। এতে কোনো ব্যক্তি আগের বিয়ের তথ্য গোপন করে নতুন করে বিয়ে নিবন্ধনের চেষ্টা করলে তা শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।
বর্তমানে কোনো ব্যক্তি এক জায়গায় বিয়ে করে অন্য জায়গায় সেই তথ্য গোপন রাখার চেষ্টা করলে তা যাচাই করা কঠিন হতে পারে। ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পূর্বের বিয়ের তথ্য অনলাইনে পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বহুবিবাহ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও সহায়তা পাওয়া যাবে। জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য সংযুক্ত থাকলে বিয়ের ক্ষেত্রে বয়স ও পরিচয় যাচাইয়ের সুযোগ বাড়বে। তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সব কাজীকে ডিজিটাল বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এ জন্য তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
ডিজিটাল নিবন্ধনের আরও কিছু সুবিধার কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বা সন্তানদের পক্ষ থেকে একাধিক দাবি উঠলে নিবন্ধিত বিবাহের তথ্য যাচাই করে প্রকৃত সম্পর্ক নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। এতে এ ধরনের বিরোধ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার সংখ্যাও কমতে পারে।
বিদেশে বসবাসকারী বা বিদেশ ভ্রমণকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এই তথ্যভান্ডার কাজে আসবে বলে জানান তিনি। কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বিদেশে নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনলাইনে বিবাহের নিবন্ধন যাচাই করতে পারবে। এতে বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সহজ হবে।
এদিকে ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়নেও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার প্রবণতা কমাতে রাজধানীর সাব-রেজিস্ট্রারদের লটারির মাধ্যমে পদায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন একই পদে থাকার কারণে সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে তদবিরের সুযোগ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি এড়াতে নিয়ম মেনে লটারির মাধ্যমে পদায়নের ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা কার্যকর করতে দেশের সব কাজীকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।