শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

গ্যাস সংকটেই বাড়ছে লোডশেডিং: বাণিজ্যমন্ত্রী


দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতির মূল কারণ গ্যাস সংকট বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস আমদানি করতে না পারায় লোডশেডিং বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

২৪ এপ্রিল ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ 

গ্যাস সংকটেই বাড়ছে লোডশেডিং: বাণিজ্যমন্ত্রী
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

দেশে সাম্প্রতিক লোডশেডিং বৃদ্ধির পেছনে গ্যাস সংকটকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো ব্যাপকভাবে গ্যাসনির্ভর হওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ খাতে।

শুক্রবার দুপুরে সিলেট সদর উপজেলা-এর মাসুকগঞ্জ বাজারে বাসিয়া খাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হয়, যেখানে অতিরিক্ত ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করতে হয়। তবে অর্থের সংস্থান থাকলেও নানা কারণে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে এবং লোডশেডিং বাড়ছে।

সরকারের বর্তমান মেয়াদ মাত্র দুই মাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগের সময়ের নানা অব্যবস্থাপনা ও অরাজকতা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া গেছে, যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবে এ সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে এলএনজি আমদানি সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নতুন টার্মিনাল নির্মাণের জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে।

এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ডিজেলের দাম মাত্র ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, যা মূল্যস্ফীতিতে বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি ট্রাক ২০০ কিলোমিটার পণ্য পরিবহন করলে কেজিপ্রতি পণ্যের দাম সর্বোচ্চ ৩০ পয়সা বাড়তে পারে যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে না।

উল্লেখ্য, আগামী ২ মে তারেক রহমান সিলেটের বাসিয়া খাল খনন কাজের উদ্বোধন করবেন। এর প্রস্তুতি দেখতে এদিন পরিদর্শনে যান বাণিজ্যমন্ত্রী ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ

বাসিয়া খাল খনন প্রকল্প সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, খালটির মোট দৈর্ঘ্য ৪০ কিলোমিটার হলেও ২৩ কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে। এটি সিলেট সদর উপজেলা-এর মাসুকগঞ্জ বাজার থেকে শুরু হয়ে ওসমানীনগর হয়ে জগন্নাথপুর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৯০ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।