শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

এক হত্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জন


কেরানীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিশু জিহাদকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। তদন্তে ভুক্তভোগীকে জীবিত পাওয়া যাওয়ায় মামলাটিকে তথ্যগত ভুল হিসেবে বিবেচনা করে আদালত এই আদেশ দেন।

২০ মার্চ ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ণ 

এক হত্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জন
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

কেরানীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিশু জিহাদকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না এই আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, এর আগে ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট তদন্ত শেষে পুলিশ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলাটি হত্যা হিসেবে দায়ের করা হলেও ভুক্তভোগী জিহাদ জীবিত রয়েছে।

অব্যাহতি পাওয়া উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন।

আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) আবদুল নূর গণমাধ্যমকে জানান, মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র এবং ভুক্তভোগীর জবানবন্দি পর্যালোচনায় দেখা গেছে- এটি হত্যা মামলা হিসেবে দায়ের হলেও জিহাদ জীবিত রয়েছে এবং সে কেবল আহত হয়েছিল। আদালতে উপস্থিত হয়ে সে নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেছে। এ কারণে আদালত মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে সব আসামিকে অব্যাহতি দেন।

মামলাটি দায়ের করেছিলেন জিহাদের বাবা জহিরুল ইসলাম রাজু। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তার ছেলে নিহত হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শেখ হাসিনাসহ ১২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তবে তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, জিহাদ নিহত হয়নি। বরং বাসস্থান ও আর্থিক প্রলোভনের কারণে তাকে মৃত দেখিয়ে মামলা করা হয়েছিল। তদন্তকারী কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বদিয়ার রহমান তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, অন্যত্র আহত হওয়ার ঘটনাকে কেরানীগঞ্জে ‘হত্যা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

এই প্রেক্ষাপটে আদালত মামলাটিকে তথ্যগতভাবে অসঙ্গত মনে করে এবং সব আসামির অব্যাহতির আদেশ দেন।