বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬

শৈত্যপ্রবাহের দাপটে কাঁপছে দেশ, উত্তরে সর্বনিম্ন ৬.৮ ডিগ্রি


দেশজুড়ে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। উত্তরের বেশ কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার সকালে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আপাতত এই শীতের প্রকোপ কমার সম্ভাবনা নেই।

১০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ 

শৈত্যপ্রবাহের দাপটে কাঁপছে দেশ, উত্তরে সর্বনিম্ন ৬.৮ ডিগ্রি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

সারা দেশে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রোববার তা আরও সামান্য কমতে পারে। একই সঙ্গে আগামী দুদিন শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মঙ্গলবারের পর থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জানুয়ারি মাসজুড়েই তীব্র শীতের প্রকোপ থাকবে এবং ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়বে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের কোথাও বৃষ্টি হয়নি। একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় সিলেটে ২৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। নরসিংদী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

পঞ্চগড় জেলায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশার দাপট থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের দেখা মিলেছে। তবে শীতের তীব্রতায় শিশু ও বয়স্করা সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে।

কুড়িগ্রাম কয়েক দিনের তীব্র শীতে কুড়িগ্রামের জনজীবন বিপর্যস্ত। শুক্রবার সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। রিকশাচালক ও জেলেরা কাজে বের হতে পারছেন না। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯ উপজেলায় শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে শুক্রবার সকাল ৮টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। ফসলের ক্ষতির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, টানা কয়েক দিন ধরেই এই তাপমাত্রা অব্যাহত রয়েছে।

সার্বিকভাবে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র শীত ও শৈত্যপ্রবাহে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।