শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

কুয়াশা-শৈত্যপ্রবাহে স্থবির জনজীবন, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতে


টানা কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সারা দেশের জনজীবন। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে মানুষ, ব্যাহত হচ্ছে সড়ক, নৌ ও বিমান যোগাযোগ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ৬ জানুয়ারি থেকে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে এবং দেশের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা নেমে আসতে পারে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১০ পূর্বাহ্ণ 

কুয়াশা-শৈত্যপ্রবাহে স্থবির জনজীবন, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতে
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

আজও কুয়াশায় ঢাকা সারা দেশ। কোথাও সূর্যের দেখা মেলেনি। পৌষের হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে জনজীবন। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। টানা তিন দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার ২১টি জেলায় শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে।

ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে পথঘাট। খেটে খাওয়া মানুষ, বিশেষ করে ছিন্নমূল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এই শীতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিমান চলাচল থেকে শুরু করে সড়ক ও নৌ-যোগাযোগে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। গতকাল সকালে ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯টি ফ্লাইট ডাইভার্ট করা হয়। এসব ফ্লাইট চট্টগ্রাম, কলকাতা ও ব্যাংককে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে সড়কে দুর্ঘটনার সংখ্যাও বেড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার (৩ জানুয়ারি) রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে। জানুয়ারি মাসে দেশের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামার আশঙ্কাও রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, চলতি শীত মৌসুমে দেশে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই-তিনটি হবে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার এবং এক-দুইটি মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে।

যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবারও একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। চলতি মৌসুমে এ নিয়ে চার দিন যশোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হলো।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, গত তিন দিন ধরে দেশে শৈত্যপ্রবাহ চলছে। প্রথম দিন বরিশাল ও খুলনা বিভাগসহ কয়েকটি অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ ছিল, পরে তা কিছুটা কমলেও ৬ থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে আবার শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। দু-একটি এলাকায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনাও রয়েছে। তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার শীতের প্রকোপ বেশি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আজ শনিবারও কুয়াশার দাপট অব্যাহত থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে বিমান, সড়ক ও নৌপরিবহন সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। ফলে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহজুড়েই কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশার দাপট অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।