শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

রাসায়নিক বালাইনাশক পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, জোর দিতে হবে জৈব পদ্ধতিতে: কৃষিমন্ত্রী


কৃষিকে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানিমুখী করতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাসায়নিক বালাইনাশকের পরিবর্তে জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যথেচ্ছভাবে রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহার পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনছে। যেকোনো বালাইনাশকের ব্যবহার শতভাগ বিজ্ঞানভিত্তিক হওয়া জরুরি। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর খামারবাড়িতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাসায়নিক বালাইনাশক পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, জোর দিতে হবে জৈব পদ্ধতিতে: কৃষিমন্ত্রী
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

আজ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির ৯০তম বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দেশের কৃষি খাতের আধুনিকায়ন ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, মাটি ও জলজ বাস্তুসংস্থান (ইকোসিস্টেম) যেন স্বাভাবিক থাকে, সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ বিবেচনায় রেখে বালাইনাশক উৎপাদন, অনুমোদন, বিপণন ও ব্যবহার করতে হবে। তিনি রাসায়নিকের বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিকভাবে কীট-পতঙ্গ দমন পদ্ধতি ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের হার বাড়ানোর নির্দেশ দেন।

দেশের অর্থনীতিকে স্থায়ীভাবে শক্তিশালী করতে সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন:  "সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো কৃষিকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কেলে (শিল্প পর্যায়ে) রপ্তানিমুখী করা। আর এর জন্য প্রথম শর্ত হলো-আমাদের বিশ্বকে নিশ্চিত করতে হবে যে, বাংলাদেশে উৎপাদিত কৃষি পণ্য মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক নয়।"

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশের আলো, বাতাস, বৃষ্টি ও মাটি সুস্বাদু শাক-সবজি বা খাদ্য উৎপাদনের জন্য বিশ্বের মধ্যে সর্বোত্তম হওয়া সত্ত্বেও কিছু ত্রুটির কারণে আমরা এখনো বিশ্ববাজারে পুরোপুরি সফল হতে পারছি না।

দেশের বর্তমান বালাইনাশক ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদার বৈসাদৃশ্য তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে পেস্টিসাইডের কোয়ালিটি কন্ট্রোল বা মান নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে ঠিকই, তবে তা আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী কিনা তা পুনঃপর্যালোচনা করা দরকার। আজকের শিশু তথা আগামী প্রজন্মের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিশুদ্ধ পরিবেশ ও হেভি মেটাল (ভারী ধাতু) মুক্ত মাটি প্রয়োজন। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বাজারে যাওয়ার আগে পেস্টিসাইড যেভাবে চেক করা হচ্ছে, সেই পুরো স্তরটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের হতে হবে। 

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুছ ছালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সভায় গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ। সভায় সংশ্লিষ্ট খাতের বিজ্ঞানী, গবেষক এবং কারিগরি কমিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।