বিসিবির নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল, ৩ মাসের অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর নির্ধারিত এলাকায় দুই মাসের জন্য ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও মজুদ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার পর থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।
জেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, জাটকা সংরক্ষণের জন্য মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদী এলাকা অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এই এলাকায় প্রায় ৪৭ হাজার নিবন্ধিত জেলে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকবেন।
নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বেকার হয়ে পড়া জেলেদের সহায়তায় ৩৯ হাজার ৪০০ জনকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল দেওয়া হচ্ছে। তারা ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত চার মাসে ৪০ কেজি করে মোট ১২০ কেজি চাল পাবেন।
সরেজমিনে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের বহরিয়া মেঘনা উপকূলীয় জেলে পল্লীতে কথা হয় কয়েকজন জেলের সঙ্গে। জেলে জাহাঙ্গীর হোসেন শেখ বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় তারা জাল ও নৌকা ডাঙায় তুলে রাখেন। তবে যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
একই এলাকার জেলে আলী আক্কাছ মাঝি জানান, মাছ ধরাই তাদের একমাত্র জীবিকা। চাল সহায়তার পাশাপাশি আর্থিক প্রণোদনা প্রয়োজন। কারণ সন্তানদের পড়াশোনা ও ঋণের কিস্তির চাপ সামলাতে শুধু চাল যথেষ্ট নয়।
চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, জাটকা সংরক্ষণে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স কাজ করবে। কেউ আইন অমান্য করে জাটকা ধরলে তার বিরুদ্ধে অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নৌ পুলিশের চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান বলেন, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নৌ পুলিশ সক্রিয় থাকবে। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা নিধন করলে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক ও জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, ইলিশের স্থায়িত্বশীল উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হয়, যার মধ্যে জাটকা সংরক্ষণ অন্যতম। জাতীয় স্বার্থে জেলেদের আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।