বিশেষ বার্তা • মেসির বিদায়ে রোনালদোর শ্রদ্ধা, প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে সম্মানের বার্তা
১১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বজুড়ে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ। সহজে বার্তা পাঠানো, ছবি ও ভিডিও শেয়ার করা, ভয়েস ও ভিডিও কল এবং গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুবিধার কারণে ছোট ব্যবসা ও অনলাইন উদ্যোক্তাদের কাছেও অ্যাপটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
হোয়াটসঅ্যাপের সাধারণ সংস্করণের পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস। এর বিভিন্ন ফিচার কাজে লাগিয়ে পণ্য বিক্রি, সেবার প্রচার, গ্রাহক সংগ্রহ এবং অনলাইনভিত্তিক কাজ পরিচালনা করা যায়। ঘরে বসে আয় করতে আগ্রহীদের জন্য এমন ১০টি সম্ভাবনাময় উপায় তুলে ধরা হলো।
অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে চাইলে হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস হতে পারে একটি সহজ মাধ্যম। এই অ্যাপে ব্যবসার নাম, ঠিকানা, যোগাযোগের তথ্য, কাজের সময় ও ওয়েবসাইট যুক্ত করে একটি পেশাদার প্রোফাইল তৈরি করা যায়।
পাশাপাশি পণ্যের ছবি, দাম ও বিবরণ দিয়ে ক্যাটালগ সাজানো সম্ভব। এতে সম্ভাব্য ক্রেতারা এক জায়গায় পণ্য সম্পর্কে জানতে পারেন এবং সরাসরি বার্তা দিয়ে অর্ডার করতে পারেন। পোশাক, প্রসাধনী, ঘরে তৈরি খাবার, হস্তশিল্প কিংবা বিভিন্ন দৈনন্দিন পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি কাজে লাগতে পারে।
গ্রাহকদের দ্রুত উত্তর দিতে স্বয়ংক্রিয় স্বাগত বার্তা ও অনুপস্থিতির বার্তাও ব্যবহার করা যায়।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে অন্য প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা প্রচার করে কমিশন পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে নিবন্ধন করে বিশেষ ট্র্যাকিং লিংক সংগ্রহ করতে হয়।
এরপর নিজের পরিচিত গ্রাহক, প্রাসঙ্গিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কিংবা ব্রডকাস্ট তালিকার মাধ্যমে পণ্যের তথ্য ও লিংক শেয়ার করা যায়। কেউ সেই লিংকের মাধ্যমে কেনাকাটা করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শর্ত অনুযায়ী কমিশন পাওয়া যেতে পারে।
তবে অপ্রাসঙ্গিক প্রচার, অতিরিক্ত বার্তা পাঠানো কিংবা অনুমতি ছাড়া বিজ্ঞাপন দেওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। কোন কোন দেশে কোন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম চালু রয়েছে, সেটিও আগে যাচাই করা প্রয়োজন।
যাঁদের নিজস্ব ওয়েবসাইট, ব্লগ কিংবা ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে, তাঁরা পাঠক ও দর্শকের কাছে নতুন কনটেন্ট পৌঁছে দিতে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।
নতুন ভিডিও, নিবন্ধ, শিক্ষামূলক টিপস কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্যের লিংক আগ্রহী ব্যক্তিদের সঙ্গে শেয়ার করা যায়। নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর একটি কমিউনিটি তৈরি করে নিয়মিত মানসম্মত কনটেন্টও দেওয়া সম্ভব।
এভাবে নিয়মিত পাঠক ও দর্শক তৈরি হলে ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন, ইউটিউবের মনিটাইজেশন কিংবা নিজস্ব পণ্য ও সেবা বিক্রির মাধ্যমে আয়ের সুযোগ বাড়তে পারে। তবে শুধু লিংক শেয়ার করলেই আয় নিশ্চিত হয় না; কনটেন্টের মান ও দর্শকের আগ্রহ এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
হোয়াটসঅ্যাপের ব্রডকাস্ট ফিচারের সাহায্যে একসঙ্গে একাধিক ব্যক্তির কাছে আলাদা আলাদা বার্তা পাঠানো যায়। ছোট ব্যবসার মালিকেরা নতুন পণ্যের খবর, বিশেষ ছাড়, নতুন স্টকের তথ্য কিংবা অর্ডারসংক্রান্ত আপডেট জানাতে এটি ব্যবহার করতে পারেন।
উদাহরণস্বরূপ, পোশাকের ব্যবসায়ী নতুন কালেকশনের ছবি ও দাম আগ্রহী গ্রাহকদের পাঠাতে পারেন। এতে গ্রাহককে ব্যক্তিগতভাবে উত্তর দেওয়ার সুযোগও থাকে। তবে ব্রডকাস্ট বার্তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপের নিজস্ব শর্ত ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই গ্রাহকের সম্মতি নিয়ে বার্তা পাঠানো এবং অপ্রয়োজনীয় প্রচার এড়িয়ে চলা জরুরি।
কোনো বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা থাকলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অনলাইন পরামর্শ বা প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। ভাষা শিক্ষা, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক ডিজাইন, পরীক্ষার প্রস্তুতি কিংবা ব্যবসায়িক পরামর্শের মতো ক্ষেত্রে এ সুযোগ কাজে লাগতে পারে।
প্রশিক্ষক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যক্তিগত চ্যাট, ভয়েস কল বা ভিডিও কলের মাধ্যমে সেবা দিতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী নোট, অনুশীলনী ও শিক্ষাসামগ্রীও পাঠানো যায়। নিয়মিত প্রশিক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ করা যেতে পারে। তবে সেবার পরিধি, সময়, মূল্য এবং অর্থ ফেরতের শর্ত আগে থেকেই স্পষ্ট করে দেওয়া ভালো।
লিড জেনারেশন বা সম্ভাব্য গ্রাহক সংগ্রহের কাজ করেও আয় করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবায় আগ্রহী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তাদের সঙ্গে ব্যবসাটির যোগাযোগ স্থাপনে সহায়তা করতে হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী সেবার ফি নেওয়া যেতে পারে। তবে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি থাকা জরুরি। অনুমতি ছাড়া কারও ফোন নম্বর বা ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করা উচিত নয়।
অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, অর্ডারের তথ্য জানানো কিংবা সেবার প্রাথমিক নির্দেশনা দেওয়ার জন্য স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ব্যবহার করতে চায়।
প্রযুক্তিতে দক্ষ ব্যক্তিরা হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস প্ল্যাটফর্মের অনুমোদিত সুবিধা ও উপযুক্ত সফটওয়্যার ব্যবহার করে এ ধরনের ব্যবস্থা তৈরি করতে পারেন। যেমন- গ্রাহকের প্রশ্নের প্রাথমিক উত্তর, পণ্যের তথ্য, অর্ডারের অবস্থা জানানো কিংবা কর্মীদের কাছে জটিল প্রশ্ন পাঠানোর ব্যবস্থা। এ কাজে চ্যাটবট তৈরি, সেটআপ, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের জন্য গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ফি নেওয়া সম্ভব। তবে কাজ শুরুর আগে প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন, সফটওয়্যারের খরচ এবং হোয়াটসঅ্যাপের প্রযোজ্য নীতিমালা সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন।
ওয়েবিনার, অনলাইন ক্লাস, কর্মশালা কিংবা বিভিন্ন ডিজিটাল অনুষ্ঠানের প্রচার ও নিবন্ধন ব্যবস্থায় হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা যায়। আয়োজকেরা আগ্রহীদের কাছে অনুষ্ঠানের সময়, বিষয়বস্তু, নিবন্ধন পদ্ধতি ও টিকিটের মূল্য জানাতে পারেন। অর্থ পরিশোধ ও নিবন্ধন নিশ্চিত হওয়ার পর অংশগ্রহণকারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা এবং অনলাইন ক্লাসের লিংক পাঠানো যায়।
বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ বা কর্মশালার জন্য এ পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে। তবে অর্থ গ্রহণের নিরাপদ ব্যবস্থা, অংশগ্রহণকারীদের তথ্যের গোপনীয়তা এবং অনুষ্ঠান বাতিল হলে অর্থ ফেরতের নীতি আগে থেকেই নির্ধারণ করা উচিত।
অনলাইন কেনাকাটায় অনেক গ্রাহক পণ্য কার্টে যোগ করেও শেষ পর্যন্ত অর্ডার সম্পন্ন করেন না। একে বলা হয় ‘অ্যাবানডনড কার্ট’ বা পরিত্যক্ত কার্ট।
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নিয়ে এ ধরনের অসম্পূর্ণ অর্ডার ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করা যায়। গ্রাহক আগে যোগাযোগের সম্মতি দিয়ে থাকলে তাঁকে অর্ডার সম্পন্ন করার নির্দেশনা, পণ্যের তথ্য কিংবা প্রযোজ্য ছাড়ের খবর পাঠানো যেতে পারে। এ কাজে প্রযুক্তিগত সংযোগ, স্বয়ংক্রিয় বার্তা এবং বিক্রির ফলাফল বিশ্লেষণের প্রয়োজন হতে পারে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সেবা ফি বা বিক্রির ওপর কমিশন নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া প্রচারমূলক বার্তা পাঠানো উচিত নয়।
বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকসেবা, বার্তার উত্তর দেওয়া, অর্ডারের তথ্য হালনাগাদ, অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ কিংবা অনলাইন ব্যবসার দৈনন্দিন কাজ পরিচালনায় ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টের প্রয়োজন হয়।
হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এসব কাজের কিছু অংশ সম্পন্ন করা সম্ভব। বাংলা ও ইংরেজিতে ভালো যোগাযোগের দক্ষতা, দ্রুত টাইপ করার অভ্যাস এবং গ্রাহকের সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা থাকলে এ ধরনের কাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা যায়।
কাজের ধরন অনুযায়ী ঘণ্টাপ্রতি, দৈনিক কিংবা মাসিক পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হতে পারে। তবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানে কাজের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতা যাচাই করা, কাজের শর্ত বুঝে নেওয়া এবং অগ্রিম টাকা চাওয়া সন্দেহজনক নিয়োগ প্রস্তাব থেকে সতর্ক থাকা জরুরি।
হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে আয়ের সুযোগ থাকলেও এটি নিজে থেকে অর্থ উপার্জনের কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। গ্রাহকের আস্থা, পণ্যের মান, দক্ষতা, নিয়মিত যোগাযোগ এবং সঠিক ব্যবসায়িক পরিকল্পনাই সাফল্যের মূল ভিত্তি।
শুরুতে নিজের দক্ষতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী একটি পদ্ধতি বেছে নেওয়া ভালো। এরপর ছোট পরিসরে কাজ শুরু করে গ্রাহকের চাহিদা বুঝে ধীরে ধীরে পরিসর বাড়ানো যেতে পারে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, গ্রাহকের সম্মতি, নিরাপদ লেনদেন এবং হোয়াটসঅ্যাপের নীতিমালা মেনে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।