সরকারি পে-স্কেলের পাশাপাশি বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ
মোবাইল ফোনের ব্যালেন্স ব্যবহার করেই এবার স্মার্টফোন কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ডিরেক্ট অপারেটর বিলিং (ডিওবি) সেবার আওতায় মাসিক খরচের সীমা বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এর আগে এই সেবার মাধ্যমে স্মার্টফোন কেনার সুযোগ ছিল না।
বিটিআরসি কর্মকর্তা ও খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন সীমার আওতায় গ্রাহকেরা স্মার্টফোন, সিমভিত্তিক বিভিন্ন ডিভাইস, রাউটারসহ অনুমোদিত ডিজিটাল পণ্য ও সেবার মূল্য মোবাইল ব্যালেন্স ব্যবহার করে পরিশোধ করতে পারবেন। এ ছাড়া কিস্তিতে স্মার্টফোন কেনার সুযোগও তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে গ্রাহকেরা মোবাইল ব্যালেন্স ব্যবহার করে কিস্তির অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।
মূলত যেসব গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাংক হিসাব নেই, তাদের জন্য ডিজিটাল পণ্য কেনার সুযোগ বাড়াতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ডিওবি সাধারণ মোবাইল ওয়ালেটের মতো অবাধে ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল অর্থ নয়। নির্ধারিত ও অনুমোদিত পণ্য এবং সেবার মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রেই কেবল এই সুবিধা ব্যবহার করা যাবে।
এখন পর্যন্ত সংশোধিত সীমার আওতায় শুধু গ্রামীণফোন অনুমোদন পেয়েছে। তবে অন্যান্য মোবাইল অপারেটরও এ সেবা চালুর জন্য বিটিআরসির কাছে আবেদন করতে পারবে।
গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ বলেন, সরকার দেশে স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে। যেসব গ্রাহকের কার্ড বা অন্যান্য ব্যাংকিং চ্যানেলের সুবিধা নেই, তারা যাতে মোবাইল ব্যালেন্স ব্যবহার করে হ্যান্ডসেট কিনতে পারেন, নতুন এই ব্যবস্থা সেই সুযোগ তৈরি করবে।
ডিওবির মাধ্যমে ডিজিটাল কনটেন্ট, অ্যাপ এবং অ্যাপভিত্তিক কেনাকাটা, অনলাইন ইউটিলিটি বিল, ই-টিকিটিং, ই-হেলথ সেবা, সরকারি লটারি, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সাবস্ক্রিপশন এবং শিক্ষা প্ল্যাটফর্মসহ অনুমোদিত ডিজিটাল পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধ করা যাবে। তবে এ সেবার মাধ্যমে ভার্চুয়াল মুদ্রা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপ ও গেমে ব্যবহৃত কয়েন, পয়েন্ট, ক্রেডিট, কুপন, ডায়মন্ড ও জেম কেনা যাবে না।
জনগণের কাছ থেকে বিনিয়োগ সংগ্রহ, ঋণ দেওয়া, অর্থ সংরক্ষণ বা অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের সুযোগ করে দেয়- এমন অ্যাপেও ডিওবির মাধ্যমে লেনদেন নিষিদ্ধ থাকবে। এ ছাড়া জুয়া, ক্যাসিনো, ক্রিপটোকারেন্সি বা ক্রিপটো-অ্যাসেট কেনাবেচা, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, শেয়ারবাজারে লেনদেন এবং মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রমে এই সেবা ব্যবহার করা যাবে না। নন-রেসিডেন্ট মার্চেন্টদের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ পাঠানোর প্রয়োজন হলে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে অনুমোদন নিতে হবে।
বাংলাদেশে ২০১৮ সালে ডিরেক্ট অপারেটর বিলিং বা ডিওবি সেবা চালু হয়। সে সময় এ সেবার মাসিক খরচের সীমা ছিল ৬০০ টাকা এবং বার্ষিক সীমা ছিল ৩ হাজার টাকা। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক সাময়িকভাবে মাসিক সীমা ২ হাজার এবং বার্ষিক সীমা ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে। এই সীমা চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কার্যকর ছিল।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনের ভিত্তিতে বিটিআরসি মোবাইল অপারেটরদের বর্ধিত সীমার আওতায় সেবা দেওয়ার অনুমতি দেয়। নতুন সিদ্ধান্তে মাসিক লেনদেনের সীমা বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে, যা আগের ২ হাজার টাকার সীমার তুলনায় ২৫ গুণ বেশি।
বিটিআরসি জানিয়েছে, ডিওবির মাধ্যমে গ্রাহকেরা যাতে শুধু অনুমোদিত ডিজিটাল পণ্য ও সেবা কিনতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে মোবাইল অপারেটরদের। একই সঙ্গে গ্রাহক সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি রিফান্ড ও চার্জব্যাক নীতিমালা প্রণয়ন এবং তা কার্যকর করার দায়িত্বও থাকবে অপারেটরদের ওপর।
ডিওবি কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে থাকবে। সংশ্লিষ্ট অর্থপাচার ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় মোবাইল অপারেটরদের রিপোর্টিং সংস্থা হিসেবেও বিবেচনা করা হবে। নতুন এই উদ্যোগের ফলে ব্যাংকিং বা কার্ডভিত্তিক লেনদেনের বাইরে থাকা বিপুলসংখ্যক মোবাইল ব্যবহারকারীর জন্য স্মার্টফোনসহ অনুমোদিত ডিজিটাল পণ্য ও সেবা কেনার নতুন সুযোগ তৈরি হলো।