মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

ইউএই-তে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ


শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি, ক্ষতিকর কনটেন্ট এবং ডিজিটাল আসক্তি থেকে সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকার। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, দেশটিতে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তা অনুমোদন করেছে দেশটির মন্ত্রিসভা। অভিভাবকের অনুমতি থাকলেও এই নিয়মের কোনো ব্যতিক্রম হবে না বলে গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

২২ জুন ২০২৬, ১:১২ অপরাহ্ণ 

ইউএই-তে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। নতুন পাস হওয়া আইন অনুযায়ী, ১৫ বছরের নিচে কোনো শিশু ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, এক্স (সাবেক টুইটার) কিংবা স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট খুলতে বা ব্যবহার করতে পারবে না। শুধু তাই নয়, কোনো পোস্টে মন্তব্য করা, পাবলিক গ্রুপে অংশ নেওয়া কিংবা অনলাইন আলোচনায় যুক্ত হওয়ার সুযোগও থাকছে না তাদের।

তবে ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের জন্য শর্তসাপেক্ষে সীমিত আকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই বয়সীদের ক্ষেত্রে বয়সোপযোগী কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ ফিচার নিষ্ক্রিয়করণ এবং বাধ্যতামূলক প্যারেন্টাল কন্ট্রোল (অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ) ব্যবস্থার মতো কঠোর নিরাপত্তা বলয় কার্যকর থাকবে।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো এখন থেকে শুধু ব্যবহারকারীর দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অ্যাকাউন্ট খুলতে দিতে পারবে না। তাদের অবশ্যই নির্ভরযোগ্য বয়স যাচাই পদ্ধতি চালু করতে হবে। এর জন্য ডিজিটাল আইডি, জাতীয় পরিচয়পত্র, বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি অথবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI) বয়স নির্ধারণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

পাশাপাশি, শিশুদের অনলাইন কার্যকলাপ ট্র্যাক করে তাদের টার্গেট বা লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন প্রদর্শনও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিয়মবহির্ভূত অ্যাকাউন্টগুলো অবিলম্বে বন্ধ করা এবং বয়সসীমা ফাঁকি দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা রোধে প্ল্যাটফর্মগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ইউএই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন নিয়ম বাস্তবায়ন ও তদারকির বিস্তারিত নির্দেশনা আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে। সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে এই নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ ১২ মাস সময় দেওয়া হবে। কোনো প্ল্যাটফর্ম এই নিয়ম মানতে ব্যর্থ হলে প্রশাসনিক জরিমানা, আংশিক নিষেধাজ্ঞা বা গুরুতর ক্ষেত্রে দেশটিতে তাদের কার্যক্রমের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্য স্ক্রিন টাইম ব্যবস্থাপনা এবং অনলাইন ঝুঁকি মোকাবিলা বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবে সরকার। এছাড়া স্কুলগুলোতে ডিজিটাল নিরাপত্তা শিক্ষা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং নিরাপদ অনলাইন আচরণবিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ইউএই সরকারের মতে, বিশ্বব্যাপী শিশুদের পরিপক্বতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদারের বৈশ্বিক প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১৫ বছর বয়সসীমাকে একটি বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ