এলপিজির সংকট নেই, মজুত করে দাম বাড়ালে ব্যবস্থা: তথ্য উপদেষ্টা
১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে এশিয়ান কাপ ক্রিকেটের সেমিফাইনালে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচেও ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি টাইগাররা। পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়াইটা শুরুতে জমিয়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটের পরাজয়ে এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের সোনালি স্বপ্নের ইতি ঘটেছে।
নাগোয়ায় টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় পাকিস্তান। বৃষ্টির প্রভাবে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে দাঁড়ায় ১৩ ওভারে। নির্ধারিত ১৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ১১১ রান। ইনিংসে একমাত্র তাওহিদ হৃদয়ই ব্যাট হাতে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ২৫ বলের ঝোড়ো ইনিংসে চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি করেন ৪৫ রান।
হৃদয়ের বাইরে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বড় কোনো জুটি দেখা যায়নি। সাইফ হাসান ১৯ রান করেন, আর শেখ মেহেদী হাসানের ব্যাট থেকে আসে ১১ রান। দলের অন্য ব্যাটাররা দ্রুত ফিরে যাওয়ায় প্রত্যাশিত সংগ্রহ গড়তে পারেনি বাংলাদেশ।
তবে ১১২ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা স্বস্তিতে করতে পারেনি পাকিস্তানও। নতুন বল হাতে বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতেই আঘাত হানেন। মেহেদী হাসান ও নাসুম আহমেদ দ্রুত দুটি উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের রান তাড়ায় চাপ তৈরি করেন।
এরপর সাইম আইয়ুব ও উসমান খানকেও সাজঘরে ফেরায় বাংলাদেশ। এতে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয় এবং পাকিস্তানের ওপর চাপ আরও বাড়ে। একটা সময় মনে হচ্ছিল, কম রান নিয়েও বোলারদের লড়াইয়ে ম্যাচ জমিয়ে তুলতে পারে বাংলাদেশ।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চাপ ধরে রাখতে পারেনি টাইগাররা। আব্দুল সামাদ ও হাসান নাওয়াজের পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের গতিপথ বদলে যায়। দুজনের দায়িত্বশীল ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দ্রুতই নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় পাকিস্তান।
বিশেষ করে বাংলাদেশের ইনিংসের দশম ওভারটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মোস্তাফিজুর রহমানের করা সেই ওভারে পাকিস্তানি ব্যাটাররা একটি ছক্কার পাশাপাশি টানা চারটি বাউন্ডারি আদায় করে নেন। এরপর আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ।
শেষ পর্যন্ত ৯ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান। আব্দুল সামাদ ৩০ এবং হাসান নাওয়াজ ২৭ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
এভাবে ব্যাটিং ব্যর্থতার ধারা এবং শেষ দিকে বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে সেমিফাইনাল থেকেই এশিয়ান কাপের অভিযান শেষ হলো বাংলাদেশের। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে পাকিস্তান এগিয়ে গেল ফাইনালের পথে, আর শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে আসর শুরু করা বাংলাদেশকে ফিরতে হলো হতাশা নিয়ে।