মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী যাচ্ছেন সম্পূর্ণ জিরো কস্টে
৩০ আগস্ট ২০২৬, ১:২১ অপরাহ্ণ
মাত্র ১০১ রানের পুঁজি নিয়েও লড়াইটা শেষ পর্যন্ত জমিয়ে তুলেছিল বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স দল। তবে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় জয়ের খুব কাছে গিয়েও থামতে হলো তাদের। শেষ উইকেটটি নিতে না পারায় ভিক্টোরিয়া সিএ একাদশের কাছে এক উইকেটে হেরে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজের সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ এইচপি দল।
রোববার (৩০ আগস্ট) ডারউইনের গার্ডেনস ওভালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ১ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ভিক্টোরিয়া। টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ১৭.১ ওভারে ১০১ রানে অলআউট হয়ে যায় দলটি।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন জিশান আলম। আরিফুল ইসলাম ১০ বলে করেন ১৯ রান। এ ছাড়া আবু হায়দার ১২ এবং আব্দুল গাফফার সাকলাইন করেন ১০ রান। দলের বাকি কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
ভিক্টোরিয়ার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন অধিনায়ক উইল সাদারল্যান্ড। ২৭ রান খরচায় চার উইকেট নেন তিনি। স্যাম এলিয়ট, হ্যারি হুকস্ত্রা ও টড মারফি নেন দুটি করে উইকেট। জবাবে মাত্র ১০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে সহজ পথেই এগোচ্ছিল ভিক্টোরিয়া। তবে বল হাতে দারুণ লড়াইয়ে ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ।
ইনিংসের প্রথম ওভারেই হ্যারি ডিক্সনকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন রুবেল। এরপর শামীমের আঘাতে ফেরেন টম রজার্স ও ক্যাম্পবেল কেলাওয়ে। টম রজার্স করেন ১৮ রান এবং কেলাওয়ে করেন ২৩ রান।
৭৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ভিক্টোরিয়া যখন জয়ের পথে এগোচ্ছিল, তখনই নাটকীয়ভাবে ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ। আবু হায়দার ব্লেক ম্যাকডোনাল্ডকে ১৫ রানে ফেরান। এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন রুবেল। টানা দুই বলে তিনি ফেরান উইল সাদারল্যান্ড ও স্যাম এলিয়টকে। সাদারল্যান্ড করেন ১৬ রান, আর এলিয়ট ফেরেন কোনো রান না করেই। এরপর রিপন মন্ডল ছয় রানে বোল্ড করেন ব্রডি সাইমন্সকে। রাকিবুল হাসানের শিকার হয়ে এক রানে ফেরেন হ্যারি হুকস্ত্রা। টড মারফিও রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন।
একপর্যায়ে দুই দলের রান সমান হয়ে যায়- ১০১ রানে ভিক্টোরিয়ার ৯ উইকেট পতন ঘটে। ফলে শেষ উইকেটটি তুলে নিতে পারলেই অবিশ্বাস্য এক জয় পেত বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা। লিয়াম ব্ল্যাকফোর্ড ২৬ বলে অপরাজিত ১৯ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ১৯.৪ ওভারে ৯ উইকেটে ১০৫ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে ভিক্টোরিয়া।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে আবারও উজ্জ্বল ছিলেন রুবেল। চার ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন তিনি। শামীম নেন দুটি উইকেট। আবু হায়দার, রিপন মন্ডল ও রাকিবুল হাসান নেন একটি করে উইকেট। এই হারের মধ্য দিয়ে দারুণ একটি টুর্নামেন্টের সমাপ্তি হলো বাংলাদেশ এইচপি দলের। ছয় ম্যাচের লিগ পর্বে পাঁচটিতে জয় পেয়েই সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল তারা।
এর আগে গত ২৪ আগস্ট লিগ পর্বে একই ভিক্টোরিয়াকে পাঁচ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে রুবেল চার উইকেট নিয়েছিলেন। আর শামীম ৩৩ বলে অপরাজিত ৫১ রান করে দলকে জিতিয়েছিলেন। তবে সেমিফাইনালে এসে সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে পারেনি বাংলাদেশ এইচপি। দ্বিতীয়বারের মতো টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত এক উইকেটের নাটকীয় হারে স্বপ্নভঙ্গ হলো তাদের।