বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ নারী দল


প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের চরম নাটকীয়তায় নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে সাফ উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। বুধবার ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে সরাসরি কর্নার থেকে ঋতুপর্ণা চাকমার ‘অলিম্পিক গোল’ এবং ইনজুরি টাইমে সাগরিকার জয়সূচক গোলে টানা তৃতীয়বারের মতো সাফের ফাইনাল নিশ্চিত করল লাল-সবুজের মেয়েরা।
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ নারী দল
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে সাফ উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এই জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে নাম লেখাল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বুধবার ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে বাংলাদেশের হয়ে গোল দুটি করেন ঋতুপর্ণা চাকমা ও সাগরিকা। এর আগে শেষ দুই আসরে নেপালকে হারিয়েই শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এবারও তাদের বিদায় করে হ্যাটট্রিক শিরোপার আরও কাছে পৌঁছে গেল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে সাফ উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে সাগরিকার করা জয়সূচক গোল বাংলাদেশকে টানা তৃতীয়বারের মতো সাফের ফাইনালে নিয়ে যায়।

ম্যাচের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। শুরু থেকেই ছন্নছাড়া ফুটবল খেলতে থাকা বাংলাদেশ রক্ষণভাগের ভুলে ম্যাচের ২৩তম মিনিটে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে। ডি-বক্সের ভেতরের জটলা থেকে বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে, সেই সুযোগে দারুণ এক কোনাকুনি শটে নেপালকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন গিতা রানা।

পিছিয়ে পড়ার পর দুই উইং ব্যবহার করে আক্রমণাত্নক ফুটবল খেলতে শুরু করে বাংলাদেশ। তবে নেপালের রক্ষণ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল ফরোয়ার্ডদের। অবশেষে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মিনিটে (৪৫ মিনিটে) দেখা মেলে এক জাদুকরী মুহূর্তের। সরাসরি কর্নার কিক থেকে নেপালের জালে বল জড়িয়ে দুর্দান্ত এক ‘অলিম্পিক গোল’ করেন উইঙ্গার ঋতুপর্ণা চাকমা। তার এই অবিশ্বাস্য গোলে ১-১ সমতায় ফিরে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে নেপাল এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল। নেপালি ফরোয়ার্ড রেখার শট গোলকিপার মিলি আক্তারকে ফাঁকি দিলেও তা গোলপোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। অন্যদিকে, ৭৮তম মিনিটে সাগরিকার একটি দারুণ শট নেপালের গোলকিপার সুব্বা লাফিয়ে প্রতিহত করলে লিড নেওয়া থেকে বঞ্চিত হয় বাংলাদেশও।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। যোগ করা ৬ মিনিটের ইনজুরি টাইমের ঠিক ৩ মিনিটের মাথায় আসে বাংলাদেশের সেই কাঙ্ক্ষিত ক্ষণ। ডানপ্রান্ত থেকে সামসুন্নাহার জুনিয়রের বাড়িয়ে দেওয়া নিখুঁত পাসে বল নেপালের জালে জড়িয়ে দেন স্ট্রাইকার সাগরিকা। আর তাতেই ২-১ গোলের নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

সাফের ইতিহাসে গত দুই আসরে শুধু ফাইনালেই ওঠেনি বাংলাদেশ, দুবারই নেপালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল। এবার সেমিফাইনাল থেকেই নেপালকে বিদায় করে ফাইনালে পা রাখল সাবিনা-ঋতুপর্ণারা। দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ধরে রেখে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে এখন চূড়ান্ত লড়াইয়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ দল।