জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন ২০২৬ পাস: অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহারের বিধান
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর।
বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের বিপুল জনসমর্থনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রভাব, স্বজনপ্রীতি বা অনিয়মের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে এবং দুর্নীতির প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিতে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।
আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয় বৈঠকে। প্রতিমন্ত্রী জানান, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখা, সেহরি, ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ড দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান কিছু উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী নুর আরও জানান, দেশের শ্রমবাজারের বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, অতীতে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময় মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার উন্মুক্ত ও সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। মাঝখানে নানা কারণে সেই ধারাবাহিকতায় ছন্দপতন হয়েছে। বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালু ও নতুন বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্য সফর করলে তা সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে বলেও বৈঠকে প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সবশেষে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার শিগগিরই ১৮০ দিনের একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে। এই পরিকল্পনার আওতায় নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জনসেবা বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক সংস্কারের মতো বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে।