শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষর: পোশাক খাতে নতুন দিগন্ত দেখছে বিজিএমইএ


বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় দেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতে আশার নতুন আলো জ্বলেছে। বিজিএমইএ বলছে, নয় মাসের নিবিড় আলোচনার ফল এই চুক্তি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়াবে।

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:০৬ অপরাহ্ণ 

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষর: পোশাক খাতে নতুন দিগন্ত দেখছে বিজিএমইএ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঐতিহাসিক অর্জনকে স্বাগত জানায় সংগঠনটি।

বিজিএমইএ জানায়, প্রায় নয় মাসের নিবিড় ও সফল আলোচনার ফল হিসেবে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং মার্কিন বাজারে প্রবেশ আরও সহজ ও লাভজনক হবে।

সংগঠনটি এই সাফল্যের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) কার্যালয়ের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করা হয়।

চুক্তির প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত ‘পাল্টা শুল্ক’ ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে বাংলাদেশে উৎপাদিত পোশাকের ওপর কোনো পাল্টা শুল্ক প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ, মার্কিন কাঁচামাল ব্যবহার করলে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা শূন্য শুল্ক সুবিধা পাবেন। বিজিএমইএ মনে করছে, এটি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য বড় ধরনের আর্থিক স্বস্তি এনে দেবে এবং একই সঙ্গে মার্কিন তুলা চাষিদের জন্যও নতুন বাজার সৃষ্টি করবে- যা দুই দেশের জন্যই ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মার্কিন তুলা বিশ্বমানের এবং তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল। তবে দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো যদি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে প্রতিযোগিতামূলক দামে সুতা সরবরাহ করতে পারে, তাহলে রপ্তানি বৃদ্ধির বড় সম্ভাবনা তৈরি হবে।n এছাড়া শুল্ক সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে মার্কিন কাঁচামালের সঠিক মূল্যায়ন এবং ‘ট্রেসেবিলিটি’ বা উৎস শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি বলেও উল্লেখ করেছে বিজিএমইএ।

সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও সম্প্রসারিত হবে।