সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

আজ পবিত্র শবে বরাত


রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের বারতা নিয়ে আবারও ফিরে এলো মহিমান্বিত রজনী পবিত্র শবে বরাত। অগণিত পাপীতাপী বান্দার ক্ষমালাভ ও আগামী এক বছরের ভাগ্য নির্ধারণের এই বিশেষ রাতে রাজধানীসহ সারাদেশের মসজিদগুলোতে ঢল নেমেছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের। নিবিড় ইবাদত, চোখের পানি আর মহান আল্লাহর দরবারে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে এক আধ্যাত্মিক আবহে পালিত হচ্ছে এই ‘মুক্তির রাত’, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য বয়ে আনে আত্মশুদ্ধির পরম সুযোগ।

৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ 

আজ পবিত্র শবে বরাত
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

আজ দিবাগত রাতে পালিত হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত বা ‘লাইলাতুল বরাত’। হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত বরকতময় ও তাৎপর্যপূর্ণ। ফারসি শব্দ ‘শব’ মানে রাত এবং ‘বরাত’ মানে মুক্তি; অর্থাৎ এটি হলো ‘মুক্তির রাত’।

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য রহমতের দরজা খুলে দেন, গুনাহ মাফ করেন এবং আগামী এক বছরের জন্য মানুষের ভাগ্য বা রিজিক নির্ধারণ করেন। এ কারণেই উপমহাদেশে এই রাতটি ‘ভাগ্য রজনী’ হিসেবেও পরিচিত।

রাসূলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসে অধিকহারে রোজা রাখতেন এবং এই রাতে দীর্ঘ সময় নফল ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। ঐতিহাসিকভাবেই এই রাতটি মুসলিম সমাজে আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উন্নতির একটি মাধ্যম হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

শবে বরাতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম না থাকলেও, ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই রাতে বেশ কিছু ইবাদত পালন করে থাকেন:

নফল নামাজ: দীর্ঘ কিরাত ও সিজদার মাধ্যমে নফল নামাজ আদায় করা।

কোরআন তিলাওয়াত: অর্থসহ পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আসকার।

তওবা ও ইস্তিগফার: বিগত জীবনের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

পরদিন রোজা রাখা: ১৫ই শাবান (আগামীকাল) নফল রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।

কবর জিয়ারত: মৃত আত্মীয়-স্বজনের আত্মার মাগফিরাত কামনায় কবর জিয়ারত করা।

বাংলাদেশে শবে বরাত উদযাপনে ভিন্নধর্মী এক আবহ তৈরি হয়। একদিকে যেমন মসজিদে মসজিদে চলে জিকির ও মিলাদ মাহফিল, অন্যদিকে ঘরে ঘরে তৈরি করা হয় নানা পদের হালুয়া, রুটি ও মিষ্টান্ন। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মাঝে খাবার বিতরণের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি ফুটে ওঠে। সন্ধ্যা হতেই ছোট-বড় সবাই নতুন পোশাক পরে মসজিদে নামাজ আদায় করতে যায়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলামিক স্কলাররা আতশবাজি বা পটকা ফোটানোর মতো কাজ থেকে বিরত থেকে শান্ত পরিবেশে ইবাদত করার ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন।