শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

ভূমি খাতে বড় সংস্কার: ঘরে বসেই মিলবে দলিলের কপি


বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় আসছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। দীর্ঘদিনের এনালগ পদ্ধতি পেরিয়ে সরকার প্রথমবারের মতো দলিল রেজিস্ট্রেশন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর আওতায় ১৯০৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সংরক্ষিত সব দলিল ধাপে ধাপে স্ক্যান করে একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হবে।

২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ 

ভূমি খাতে বড় সংস্কার: ঘরে বসেই মিলবে দলিলের কপি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বাংলাদেশে ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বড় ধরনের সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের সব দলিল রেজিস্ট্রেশন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভূমি মালিকরা ঘরে বসেই অনলাইনে নিজেদের দলিল খুঁজে দেখা, যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় কপি ডাউনলোড করতে পারবেন।

সরকারি সূত্র জানায়, ১৯০৮ সাল থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সংরক্ষিত সব দলিল ধাপে ধাপে স্ক্যান করে একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন ডেটাবেজে সংযুক্ত করা হবে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালের মতো যুদ্ধকালীন সময়ে হারিয়ে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত কিছু দলিল অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে না। এ ক্ষেত্রে যেসব ভূমি মালিকের কাছে সংশ্লিষ্ট দলিলের কপি রয়েছে, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রি অফিসে জমা দিয়ে অনলাইনকরণের জন্য আবেদন করতে হবে।

ভূমি খাতে জালিয়াতি ও দুর্নীতি রোধ করাই এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত মালিকদের জমি জাল দলিলের মাধ্যমে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। অনলাইন দলিল ব্যবস্থা চালু হলে এসব অনিয়ম শনাক্ত ও প্রতিরোধ সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়নের পর সরকার একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট চালু করবে। সেখানে দলিল অনুসন্ধান, যাচাই এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কপি ডাউনলোড করা যাবে। এমনকি মূল দলিল হারিয়ে গেলেও অনলাইন কপিকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য করা হবে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ভূমি মালিকদের আপাতত সিস্টেম চালু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। যেসব দলিল অনলাইনে পাওয়া যাবে না, সেগুলোর কপি নিজ উদ্যোগে জমা দিতে হবে। তবে জাল বা ভুয়া দলিল কোনোভাবেই অনলাইন ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ডিজিটাল উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জমি সংক্রান্ত বিরোধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, দুর্নীতি ও প্রতারণা হ্রাস পাবে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দলিল সংগ্রহ আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে ভূমি সংক্রান্ত সেবা হবে দ্রুত, স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত।