জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন ২০২৬ পাস: অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহারের বিধান
২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১:৪০ অপরাহ্ণ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৃহস্পতিবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে সদ্য নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে অধ্যাপক ইউনূস এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকালে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, শ্রম আইনের ব্যাপক সংস্কার, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি, রোহিঙ্গা সংকটসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হবে। তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাবে এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরাও পর্যবেক্ষক পাঠাবে বলে তিনি আশাবাদী।
তিনি বলেন, ‘এটি একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হবে। ভবিষ্যতের ভালো নির্বাচনের জন্য এটি একটি মানদণ্ড তৈরি করবে। আসুন, আমরা আশাবাদী থাকি।’
অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আসিয়ানের সদস্যপদ পেতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতে সার্ককে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যাঁরাই বিজয়ী হবেন, তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী। তিনি গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগ এবং অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের উদ্যোগকেও তিনি স্বাগত জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে আরও শুল্ক হ্রাস সম্ভব হবে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শিবিরগুলোতে বসবাসরত এক মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতি বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, আসিয়ান সদস্যপদের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সংস্থাটির সঙ্গে সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপের জন্য আবেদন করেছে। পাশাপাশি গত ১৮ মাসে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন বলেও জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যৎ সরকার এসব উদ্যোগ আরও এগিয়ে নেবে।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।