বিসিবির নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল, ৩ মাসের অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ
২২ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোতে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে বেতন কমিশন। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন গ্রেড বা ২০তম ধাপে মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডে মূল বেতন হবে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। নতুন বেতন স্কেলেও বিদ্যমান কাঠামোর মতো ২০টি গ্রেড বা ধাপ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন বুধবার এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়। কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা শেষে সরকার এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেবে। তবে নির্বাচন সামনে থাকায় নতুন বেতন কাঠামো নির্বাচনের আগে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে।
নতুন বেতন কাঠামোতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতা বর্তমান ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যাতায়াত ভাতা এত দিন ১১তম থেকে ২০তম ধাপ পর্যন্ত সীমিত থাকলেও নতুন করে ১০ম থেকে ২০তম ধাপ পর্যন্ত দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
কমিশন পেনশনভোগীদের জন্যও উল্লেখযোগ্য হারে পেনশন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ বাড়বে। যারা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পান, তাদের পেনশন বাড়বে ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার হবে ৫৫ শতাংশ।
এছাড়া ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা। ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা।
বাড়িভাড়ার ক্ষেত্রেও ধাপভেদে পার্থক্য রাখা হয়েছে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম থেকে দশম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া তুলনামূলক কম হারে দেওয়া হবে, আর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে বাড়িভাড়ার হার তুলনামূলক বেশি রাখা হবে।
বেতন কমিশনের প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডে মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় গ্রেডে ১ লাখ ৩২ হাজার, তৃতীয় গ্রেডে ১ লাখ ১৩ হাজার, চতুর্থ গ্রেডে ১ লাখ, পঞ্চম গ্রেডে ৮৬ হাজার, ষষ্ঠ গ্রেডে ৭১ হাজার, সপ্তম গ্রেডে ৫৮ হাজার, অষ্টম গ্রেডে ৪৭ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। নবম গ্রেডে মূল বেতন ৪৫ হাজার ১০০ টাকা এবং দশম গ্রেডে ৩২ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ১১তম গ্রেডে ২৫ হাজার, ১২তম গ্রেডে ২৪ হাজার ৩০০, ১৩তম গ্রেডে ২৪ হাজার, ১৪তম গ্রেডে ২৩ হাজার ৫০০, ১৫তম গ্রেডে ২২ হাজার ৮০০, ১৬তম গ্রেডে ২১ হাজার ৯০০, ১৭তম গ্রেডে ২১ হাজার ৪০০, ১৮তম গ্রেডে ২১ হাজার, ১৯তম গ্রেডে ২০ হাজার ৫০০ এবং ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীর সর্বসাকূল্যে বেতন দাঁড়াবে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা, যা বর্তমানে ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার ১০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, নির্ধারিত সময়ের তিন সপ্তাহ আগেই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশনের প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, অর্থ সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ কমিশনের পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। সরকারি কর্মচারীদের বেতন কমিশনের প্রতিবেদন চূড়ান্ত হওয়ার পর সামরিক ও বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বেতন কমিশন গঠনের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।