বিসিবির নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল, ৩ মাসের অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ
২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশের ২৯৮টি নির্বাচনী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা মোট ১ হাজার ৯৭৩ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন। এর মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।
প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও পথসভার মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠবেন। তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, প্রচারণার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, সহিংসতা এবং পেশিশক্তি প্রদর্শনের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে পুলিশের প্রায় দেড় লাখ সদস্য এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এছাড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), সশস্ত্র বাহিনী, র্যাব, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। নজরদারি জোরদারে ড্রোন এবং বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্যমতে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ২৯৮টি আসনে (পাবনা-১ ও পাবনা-২ বাদে) মোট ১ হাজার ৯৭৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৫৮০টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৮৫৫টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং ৭২৫টি বাতিল হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৬৪৫ জন আপিল করেন, যার মধ্যে শুনানি শেষে ৪৩৭ জন প্রার্থিতা ফিরে পান। এছাড়া প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ে সারাদেশে ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
ইসি’র রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ আগে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না এবং ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগের ৪৮ ঘণ্টা পূর্বে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ করতে হবে।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর।