শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

ভোট গণনায় দেরি হতে পারে, গুজব না ছড়ানোর আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গণনায় কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর। এ বিষয়ে আগেভাগেই জনগণকে অবহিত করে গুজব প্রতিরোধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ 

ভোট গণনায় দেরি হতে পারে, গুজব না ছড়ানোর আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গণনায় কিছুটা দেরি হতে পারে। এ বছর সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি রেফারেন্ডাম এবং পোস্টাল ব্যালট থাকায় ফল প্রকাশে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি গুজব রোধে গণমাধ্যমকর্মীদের আগেভাগেই সাধারণ মানুষকে বিষয়টি জানিয়ে রাখার অনুরোধ জানান।

প্রেস সচিব জানান, নির্বাচনের সময় তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিতে চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরকে উন্নত ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশের কাছে থাকবে ২৫ হাজার ৫০০টি বডি অন ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার ফুটেজ একটি সুরক্ষা অ্যাপে যুক্ত হবে, যার মাধ্যমে দ্রুত কুইক রেসপন্স নিশ্চিত করা হবে।

ভোটের দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধারের জন্যও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনের সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অধীনে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় ১ লাখ সেনা সদস্য, নৌবাহিনীর ৫ হাজার এবং বিমান বাহিনীর সাড়ে ৩ হাজার সদস্য মাঠে থাকবে। অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসও দায়িত্বে থাকবে। নিরাপত্তায় ব্যবহার করা হবে ৫০০টি ড্রোন।

প্রেস সচিব আরও জানান, পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসন নিয়ে শঙ্কা থাকলেও এই দুই আসনসহ দেশের সব ৩০০ আসনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের নির্বাচনে ১ হাজার ৮৪২ জন বৈধ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে জানান তিনি। নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। জেলা প্রশাসকরা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ‘নির্বাচনী সুরক্ষা’ নামে একটি অ্যাপ ব্যবহারের কথাও জানান প্রেস সচিব।