বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশ বদলাতে জুলাই সনদের পক্ষে গণমানুষের সমর্থন চাই: আদিলুর রহমান খান


বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদে একটি স্বাধীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে জুলাই সনদের পক্ষে গণমানুষের সমর্থন চেয়েছেন স্থানীয় সরকার, শিল্প এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেছেন, “আমরা থাকব না; কিন্তু বাংলাদেশ শত-সহস্র বছর টিকে থাকবে সে লক্ষ্যেই এই গণভোট।”

২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ 

বাংলাদেশ বদলাতে জুলাই সনদের পক্ষে গণমানুষের সমর্থন চাই: আদিলুর রহমান খান
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

স্থানীয় সরকার, শিল্প এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, জুলাই সনদের পক্ষে গণভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শত বছরের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। এই সনদের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে, যেখানে আর ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না, বিচারহীনতা থাকবে না এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, “চব্বিশে জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ তরুণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ আবার মুক্ত হয়েছে, সেই বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করতেই সব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে হয়ে জুলাই সনদ প্রণয়ন করেছে। এই গণভোট হচ্ছে সেই সনদের ব্যাপারে জনগণের সম্মতি নেওয়ার প্রক্রিয়া।” তিনি আরও বলেন, “গত ১৫ বছর বাংলাদেশ আগ্রাসনের অধীনে ছিল। এ সময় মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেনি, ভোট দিতে পারেনি, এমনকি চিন্তার স্বাধীনতাও ছিল না। তাই জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার জন্য এই গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে উপদেষ্টা বলেন, “নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে যেন আর আয়নাঘর তৈরি না হয়, লুটপাট না হয়, দেশের টাকা বিদেশে পাচার না হয় সেজন্যই জুলাই সনদের পক্ষে ১২ ফেব্রুয়ারি ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। কেউ যেন জনগণকে বিভ্রান্ত করতে না পারে।”

তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, ১২ ফেব্রুয়ারির পর বাংলাদেশের মানুষ যে রায় দেবে, তা নিয়ে বাংলাদেশ তার যোগ্য অবস্থানে দাঁড়াবে। কোনো আগ্রাসনের কাছে আর মাথা নত করবে না। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে আর দুশ্চিন্তার কারণ থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও আইনের বাইরে কোনো কাজ করতে বাধ্য হবে না।”

সভায় আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. নাজমা নাহার এবং শ্রীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান।উপজেলা সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুয়েলের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু। সভা শেষে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান উপজেলার কলকাতা ভোগদিয়া রুরাল মার্কেট এবং জোড়পুল–খিদিরপাড়া–ভাটিভোগ–তালতলা সড়ক পরিদর্শন করেন।