বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করলেন প্রধান উপদেষ্টা


গণভবনে নির্মাণাধীন জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় তিনি জাদুঘরে সংরক্ষিত জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহিদদের স্মৃতিচিহ্ন এবং শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলের দমন-পীড়নের বিভিন্ন চিত্র ঘুরে দেখেন।

২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করলেন প্রধান উপদেষ্টা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে গণভবনে অবস্থিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে পৌঁছে চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি জাদুঘরে সংরক্ষিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পেছনের ইতিহাস, আন্দোলনের দৃশ্য, শহিদদের স্মৃতিচিহ্ন এবং শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দুঃশাসনের চিত্র ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম।

এ ছাড়া গুমের শিকার পরিবারগুলোর সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা তুলি, গুম থেকে ফেরত ভিকটিম ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, জুলাই অভ্যুত্থানে সম্মুখসারীর নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আব্দুল্লাহও উপস্থিত ছিলেন।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নেতৃত্বে জাদুঘরের কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব, মেরিনা তাবাসসুম খান এবং গবেষক ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা প্রধান উপদেষ্টাসহ অতিথিদের পুরো জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান। জাদুঘরে জুলাই অভ্যুত্থানের আলোকচিত্র, শহিদদের পোশাক, চিঠিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, সে সময়কার পত্রিকার কাটিং, অডিও-ভিডিও উপকরণ এবং বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করা হয়েছে। সেখানে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্যও প্রদর্শিত রয়েছে।

পরিদর্শনের সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন, যেখানে ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গুম, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, বিরোধীদের ওপর হামলা এবং চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

পরিদর্শন শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জুলাই শহিদদের রক্ত তাজা থাকতেই এই জাদুঘর তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, যা গোটা পৃথিবীতে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। আমরা চাই না ভবিষ্যতে আর কোথাও এমন জাদুঘর তৈরি করার প্রয়োজন হোক। জাতি যদি কখনো দিশেহারা হয়ে পড়ে, এই জাদুঘর থেকেই তারা পথ খুঁজে পাবে।”

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের উচিত হবে অন্তত একদিন এই জাদুঘরে এসে সময় কাটানো। শিক্ষার্থীদের দল বেঁধে এখানে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এখানে একটা দিন কাটালেই মানুষ বুঝতে পারবে কী ভয়াবহ নৃশংসতার মধ্য দিয়ে এ জাতিকে যেতে হয়েছে। আয়নাঘরগুলোতে কিছু সময় বা একদিন থাকলে বন্দিদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা উপলব্ধি করা সম্ভব হবে।”

ড. ইউনূস বলেন, “এই উপলব্ধিই আমাদের সবাইকে এক করবে, যেন ভবিষ্যতে আর কখনো এমন নৃশংস সময় এ জাতির জীবনে ফিরে না আসে।”

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণ ছাত্র ও সাধারণ মানুষের বীরত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “তাদের কোনো অস্ত্র ছিল না, তবু তারা সাহসিকতার সঙ্গে দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষ যে এমন নির্ভীক হতে পারে, সেটাই আমাদের বড় শিক্ষা।” 

এ সময় সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই জাদুঘরের কাজ এ পর্যায়ে পৌঁছানো একটি রেকর্ড। অনেক তরুণ-তরুণী আট মাস ধরে বিনা পারিশ্রমিকে এখানে কাজ করেছেন উল্লেখ করে তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। আরও কয়েকটি সেকশনের কাজ শিগগিরই শেষ হবে এবং নির্বাচনের আগেই জাদুঘরটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ডিসকোর্স, শিক্ষা-গবেষণা এবং শিল্প-সাহিত্য চর্চায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।