বিসিবির নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল, ৩ মাসের অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ
২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২:০৭ অপরাহ্ণ
দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে কমিশনের গঠন ও কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, এটি ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ নামে অভিহিত হবে। নতুন বিধান অনুযায়ী এখন থেকে দুদক অনধিক পাঁচ সদস্যের একটি কমিশন হিসেবে পরিচালিত হবে। এর আগে কমিশনের সদস্য সংখ্যা ছিল তিন। একই সঙ্গে কমিশনের মেয়াদ এক বছর কমিয়ে চার বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল পাঁচ বছর।
কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কমিশনে অন্তত একজন নারী কমিশনার এবং অন্তত একজন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কমিশনার থাকতে হবে। কমিশনের সদস্যদের মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি একজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেবেন। তবে বিদ্যমান কমিশনের ক্ষেত্রে এই সংশোধিত অধ্যাদেশ কার্যকর হবে কিনা, সে সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর ন্যস্ত রাখা হয়েছে।
নতুন অধ্যাদেশ ঘিরে দুদক সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কিছু উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, কমিশনের সদস্য সংখ্যা বাড়লে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার একমত হলে যেমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব, তেমনি চারজন কমিশনার একমত হলেও চেয়ারম্যান ভিন্নমত পোষণ করলে সিদ্ধান্ত স্থগিত হয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, এখন থেকে প্রতি ছয় মাস অন্তর দুদককে তাদের কার্যক্রমের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি দুদকের সব কর্মকর্তার জন্য সম্পদের হিসাব জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতাও দুদককে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ অক্টোবর সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে দুদক আইনের খসড়া অধ্যাদেশ অনুমোদন দেয় সরকার। সংশোধিত খসড়া প্রকাশের পর সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান এটির তীব্র সমালোচনা করেন। প্রায় দুই মাস পর সেই খসড়ায় কিছু সংশোধনী এনে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হলো।