বিসিবির নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল, ৩ মাসের অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ
১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ
আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। বিভীষিকাময় দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতি অর্জন করে চূড়ান্ত বিজয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার মধ্য দিয়ে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। একই রাতে চট্টগ্রামের কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ।
৩০ লাখ শহীদ এবং প্রায় ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল এ.এ.কে. নিয়াজি ঢাকার সোহরাওয়ার্দী (তৎকালীন রেসকোর্স) উদ্যানে যৌথ বাহিনীর কাছে ৯৩ হাজার সৈন্যসহ আত্মসমর্পণ করেন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাভারের জাতীয় স্মৃতি সৌধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিক, মুক্তিযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণকারী আমন্ত্রিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন জাতীয় স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধা জানাবে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনা আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। জাতীয় দৈনিকগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা এবং প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করেছে।মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোও দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করছে।এদিকে বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি সকালে জাতীয় স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। পাশাপাশি সকাল সাড়ে ৯টায় দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করবেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। বিএনপির সব ইউনিটে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, সিপিবি, বাসদ, গণফোরামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করছে। তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলা, সর্বোচ্চসংখ্যক জাতীয় পতাকা নিয়ে প্যারাশুট জাম্পিং (গিনেস বুকে নাম লেখানোর লক্ষ্যে), ব্যান্ড শো, অ্যাক্রোবেটিক শো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। তেজগাঁও পুরোনো বিমানবন্দরে প্যারাশুট জাম্পিংয়ের কারণে মেট্রোরেল সাময়িকভাবে ৪০ মিনিট বন্ধ থাকবে।
বিকেলে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা জানাবেন।