জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন ২০২৬ পাস: অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহারের বিধান
১৭ নভেম্বর ২০২৫, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ছয় অধ্যায়ে ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের প্রথম অংশ পড়া শুরু করেন বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। দুই ঘণ্টা দশ মিনিট ধরে রায় পাঠ শেষে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়। পুনর্গঠনের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে প্রথম মামলাটি দায়ের করা হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। গত বছরের ১৭ অক্টোবর প্রথম বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং সেদিনই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
পরবর্তীতে ১৬ মার্চ সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে মামলায় আসামি হিসেবে যুক্ত করা হয়। তদন্ত সংস্থা এ বছরের ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় এবং ১ জুন তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগে আনুষ্ঠানিক চার্জ দাখিল করা হয়।
অভিযোগগুলো ছিল—
১) ১৪ জুলাই গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্য,
২) হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারী দমনের নির্দেশ,
৩) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা,
৪) রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যা,
৫) আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা।
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক থাকলেও সাবেক আইজিপি মামুন গ্রেপ্তার আছেন। অভিযোগ গঠনের দিনে তিনি অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ‘অ্যাপ্রুভার’ হওয়ার আবেদন করেন। ১২ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে ২৩ অক্টোবর শেষ হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের খালাস চান। সাবেক আইজিপি মামুনের খালাসও দাবি করেন তার আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।