ঢাকাসহ ৫ অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা, থাকতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টি
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
এলজিইডি ঢাকা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ঘুষ, দুর্নীতি, কর ফাঁকি এবং কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
অভিযোগের পটভূমি
২০২৫ সালের ৩০ জুলাই দৈনিক শেয়ার বিজ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এনবিআর তদন্তে বাচ্চু মিয়ার নামসহ ৩০০ প্রকৌশলীর তালিকা উঠে আসে। এরপর ৬ আগস্ট মোহাম্মদ খাজা মহিউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি দুদক চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে মো. শিকদার হোসেন নামের আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেন যে, বাচ্চু মিয়া ‘বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ’-এর পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি কাজে প্রভাব খাটাতেন।
অভিযোগে বলা হয়, তিনি অবৈধ টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য ও ঠিকাদারদের সঙ্গে আঁতাতের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। কেরানীগঞ্জের একাধিক সড়ক, ব্রিজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পে কাজ না করেই সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
পূর্বের অনিয়ম
২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল দৈনিক সংবাদ সারাবেলা-তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নেত্রকোনায় কর্মরত অবস্থায় বাচ্চু মিয়া এক মন্ত্রীর কণ্ঠস্বর নকল করে বিভিন্ন দপ্তরে তদবির বাণিজ্য করতেন। সে সময় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে তিনি নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অবৈধ সম্পদ
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বাচ্চু মিয়া ও তার পরিবারের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ রয়েছে, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-
১. উত্তরা, সেক্টর-১১-এ স্ত্রী আসমা পারভীনের নামে কোটি টাকার ফ্ল্যাট।
২. গাজীপুর সদর নিশাদনগরে বাড়ি।
৩. গাজীপুরের জয়দেবপুরে বাড়ি।
৪. পূর্বাচল আবাসিক এলাকায় একটি প্লট।
৫. ২০২২ সালে আসমা পারভীনের নামে একটি গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-গ-৩৫-২৯৫২), যার প্রকৃত মূল্য অভিযোগ অনুযায়ী ঘোষিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি।
এছাড়া তার পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক বেনামি গাড়ি ও বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা জমা রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রাজনৈতিক যোগাযোগ ও প্রভাব
অভিযোগে আরও বলা হয়, বাচ্চু মিয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত কিছু সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং আর্থিক সহায়তাও দিচ্ছেন। গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকেও আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত দাবি
অভিযোগকারীরা মনে করেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিলে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে।