গ্রেফতার অভিযান • ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৬৮৪, মামলা ৪৪
২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
দীর্ঘ ২৫ বছর পর আবারও ব্যালন ডি'অরের মুকুট উঠল ইংল্যান্ডের কোনো ফুটবলারের মাথায়। ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার জিতে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ও বায়ার্ন মিউনিখের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। এর মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সাফল্য যুক্ত হলো তার।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়ামে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে কেইনের হাতে তুলে দেওয়া হয় ব্যালন ডি'অর। এর আগে সর্বশেষ ২০০১ সালে ইংল্যান্ডের ফুটবলার হিসেবে এই পুরস্কার জিতেছিলেন মাইকেল ওয়েন। দীর্ঘ বিরতির পর কেইনের হাত ধরে আবারও এই সম্মান ফিরে এল ইংলিশ ফুটবলে।
পুরো মৌসুমজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই কেইনের সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এই স্ট্রাইকার। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে গোলের পর গোল করে দলের আক্রমণভাগকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বুন্দেসলিগার শিরোপা ধরে রাখার পথেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি।
শুধু গোল করাই নয়, সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি এবং আক্রমণে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও কার্যকর ছিলেন কেইন। মাঠে তার ধারাবাহিকতা ও দলের সাফল্যে অবদান ব্যালন ডি'অরের দৌড়ে তাকে এগিয়ে রাখে।
ইংল্যান্ড জাতীয় দলেও অধিনায়ক হিসেবে নিজের নেতৃত্বের ছাপ রেখেছেন কেইন। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে দলকে তৃতীয় স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্বও রয়েছে তার। ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এটিকে ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে ব্যালন ডি'অর জয়ের পথটা সহজ ছিল না কেইনের জন্য। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন বার্সেলোনার তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল, রিয়াল মাদ্রিদের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আটবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী লিওনেল মেসির মতো তারকারা। শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ও দলীয় সাফল্যের সমন্বয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে পুরস্কারটি নিজের করে নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
টটেনহাম হটস্পারে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন কেইন। এবার ব্যালন ডি'অর জয়ের মধ্য দিয়ে সেই পথচলায় যুক্ত হলো এক অনন্য অধ্যায়।
এবারের আয়োজন ছিল ব্যালন ডি'অরের ৭০তম আসর। লন্ডনে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে কেইনের জয় শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দীর্ঘদিন পর ইংল্যান্ডের ফুটবলে বড় এক অর্জন হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকল।