আইন লঙ্ঘন • ডিএমপির ট্রাফিক অভিযানে এক দিনে ২৮১৩ মামলা
১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
বাংলা ব্যান্ডসংগীতের ইতিহাসে আইয়ুব বাচ্চু এমন এক নাম, যাঁর কণ্ঠ ও গিটারের সুর প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে চলেছে। মৃত্যুর আট বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর গান হারায়নি আবেদন, বরং সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়েছে শ্রোতাদের আবেগ। আজ ১৮ অক্টোবর, বাংলা রকসংগীতের এই কিংবদন্তি শিল্পীর অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৮ সালের এই দিনে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান তিনি, রেখে যান অসংখ্য কালজয়ী গান ও অমর সুরের ভান্ডার।
চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া আইয়ুব বাচ্চুর সংগীতের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল শৈশবেই। কৈশোরে বন্ধুদের নিয়ে "গোল্ডেন বয়েজ" নামে একটি ব্যান্ড গড়ে তোলেন তিনি, যার নাম পরে হয় "আগলি বয়েজ"। সেই সময় থেকেই গিটারবাদক হিসেবে নিজের প্রতিভার পরিচয় দিতে শুরু করেন বাচ্চু। ব্যান্ডটিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন কুমার বিশ্বজিৎ।
পরবর্তী সময়ে জনপ্রিয় ব্যান্ড "সোলস" এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে সংগীতাঙ্গনে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন তিনি। এরপর ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন "লাভ রান্স ব্লাইন্ড", যা সংক্ষেপে এলআরবি নামে পরিচিত। এই ব্যান্ডের মাধ্যমে বাংলা রকসংগীতে নতুন মাত্রা যোগ করেন আইয়ুব বাচ্চু। তাঁর কণ্ঠের স্বতন্ত্রতা, গানের কথা ও গিটারের অসাধারণ পরিবেশনা তাঁকে এনে দেয় ব্যাপক জনপ্রিয়তা।
দীর্ঘ সংগীতজীবনে একক শিল্পী ও ব্যান্ডসংগীতশিল্পী দুই পরিচয়েই অসংখ্য শ্রোতার ভালোবাসা অর্জন করেন তিনি। তাঁর একক অ্যালবামগুলোর মধ্যে রয়েছে "রক্ত গোলাপ","ময়না","কষ্ট","সময়","প্রেম তুমি কী","পথের গান","জীবন" ও "জীবনের গল্প"। অন্যদিকে, এলআরবির সঙ্গে প্রকাশিত "সুখ","তবুও","ঘুমন্ত শহরে", "স্বপ্ন","আমাদের বিস্ময়","অচেনা জীবন" ও "স্পর্শ" উল্লেখযোগ্য অ্যালবাম হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া "সেই তুমি","কষ্ট পেতে ভালোবাসি","এখন অনেক রাত","মেয়ে","হাসতে দেখো গাইতে দেখো" ও "এক আকাশের তারা'র মতো গান আজও শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়। প্রেম, বিরহ, অভিমান ও জীবনের নানা অনুভূতি তাঁর গানে পেয়েছে অনন্য প্রকাশ। সময়ের পরিবর্তন ঘটলেও এসব গানের আবেদন কমেনি, বরং নতুন প্রজন্মের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে তাঁর সংগীত।
গায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি গিটারবাদক হিসেবেও আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন অসাধারণ। রক ও ব্লুজ সংগীতে তাঁর দক্ষতা বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতকে আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশনার দিকে এগিয়ে নিতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। গিটার হাতে মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি, দীর্ঘ সোলো এবং প্রাণবন্ত পরিবেশনা ছিল দর্শকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। "রুপালি গিটার" যেন তাঁর সংগীতজীবনেরই এক অবিচ্ছেদ্য প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
২০১৮ সালে তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে দেশের সংগীতাঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। তবে তাঁর চলে যাওয়া সংগীতের সঙ্গে তৈরি হওয়া সম্পর্ককে মুছে দিতে পারেনি। রেডিও, টেলিভিশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও বিভিন্ন সংগীত আয়োজনে আজও নিয়মিত শোনা যায় তাঁর গান। অনেকের কাছে এসব গান পুরোনো স্মৃতির জানালা, আবার কারও কাছে কঠিন সময়ে মনের কথা প্রকাশের আশ্রয়।
আট বছর পরও আইয়ুব বাচ্চু কেবল একজন প্রয়াত সংগীতশিল্পীর নাম নন, তিনি বাংলা ব্যান্ডসংগীতের একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়। নতুন কোনো গান নিয়ে তিনি আর মঞ্চে ফিরবেন না, গিটার হাতে মাতাবেন না দর্শক-শ্রোতাদের। কিন্তু তাঁর সৃষ্টি, সুর আর অসংখ্য ভক্তের ভালোবাসায় তিনি বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল। রুপালি গিটারের সেই অনুরণন তাই থেমে যায়নি তা আজও বাজে সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে।