বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম
১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ
আবুধাবি টেস্টে জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। শেষ দিনের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আফগানিস্তানের ৪ উইকেট তুলে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি টাইগার বোলাররা। ক্যাচ মিস, রানআউটের সুযোগ নষ্ট এবং স্পিনারদের প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে। অন্যদিকে, কঠিন পরিস্থিতিতে লড়াই করে ম্যাচ বাঁচানো আফগানিস্তানের জন্য এই ড্র জয়ের সমান।
বাংলাদেশের দেওয়া ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান। ম্যাচের শেষ দিন ব্যাট হাতে অসাধারণ দৃঢ়তা দেখান সেদিকুল্লাহ আতাল। তাঁর ১১১ রানের ইনিংসেই মূলত ম্যাচ থেকে জয় তুলে নেওয়ার স্বপ্নভঙ্গ হয় বাংলাদেশের। শেষ সেশনে ৩৪ ওভার ব্যাট করে মাত্র দুটি উইকেট হারায় আফগানরা।
দিনের শেষ ভাগে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল চারটি উইকেট। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করে স্বাগতিকদের জয় থেকে দূরে সরিয়ে দেন ফিল্ডাররা। সেদিকুল্লাহর ক্যাচ হাতছাড়া করেন হাসান মাহমুদ। অন্যদিকে, অফ স্পিনার নাঈম হাসানের পরপর দুই বলে রানআউটের দুটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। এসব ভুলের সুযোগ নিয়ে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত উইকেটে টিকে থাকে আফগানিস্তান।
ম্যাচ শেষে হতাশা লুকাননি বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তাঁর মতে, জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হলেও গুরুত্বপূর্ণ সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারাই দলের ব্যর্থতার বড় কারণ। পেসারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও স্পিনারদের কাছ থেকে আরও কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেছিলেন তিনি। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের লড়াকু মানসিকতারও প্রশংসা করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য দাপট ছিল বাংলাদেশেরই। প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করার পর হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের সুবাদে আফগানিস্তানকে ২৪০ রানে গুটিয়ে দেয় টাইগাররা। প্রথম ইনিংসে হাসান ও ইবাদত হোসেন মিলে নেন ৯ উইকেট। ফলে ১০৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসে লিটন দাসের সেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেন শান্ত। লিটনের ব্যাট থেকে আসে ১০২ রান। এর আগে প্রথম ইনিংসেও ৫৩ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। তাঁর ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটের পেছনে অসাধারণ পারফরম্যান্সও ছিল ম্যাচের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।
নিজের ৩২তম জন্মদিনে লিটন গড়েছেন টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে স্মরণীয় এক কীর্তি। দুই ইনিংসে অর্ধশতক ও শতরানের পাশাপাশি উইকেটকিপার হিসেবে মোট ৯টি ডিসমিসাল করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে এক টেস্টে ব্যাটিং ও কিপিংয়ে এমন সমন্বিত পারফরম্যান্সের নতুন রেকর্ড গড়েন বাংলাদেশের এই ক্রিকেটার। প্রথম ইনিংসে চারটি ক্যাচ ও একটি স্টাম্পিংয়ের পর দ্বিতীয় ইনিংসে নেন আরও চারটি ক্যাচ। তবে প্রথম ইনিংসে সেদিকুল্লাহ আতালের ৭০ রানের সময় তাঁর একটি স্টাম্পিংয়ের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছিল।
৪৭৯ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৩২ রান সংগ্রহ করেছিল আফগানিস্তান। শেষ দিনে হাতে সাত উইকেট নিয়ে মাঠে নামা দলটি শুরু থেকেই হার এড়ানোর লড়াইয়ে মনোযোগী ছিল। সেদিকুল্লাহ আতাল, আফসার জাজাই ও হাশমতউল্লাহ শহিদির দৃঢ়তায় চা-বিরতির সময় তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ২৬৫ রান।
এরপর শেষ সেশনে বাংলাদেশের বোলাররা চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করলেও আফগান ব্যাটারদের প্রতিরোধ ভাঙতে পারেননি। সেদিকুল্লাহর শতরান এবং সতীর্থদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ড্র হয়।
সব মিলিয়ে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও নিজেদের ভুলের মাশুল দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। একদিকে হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে লিটন দাসের রেকর্ডগড়া পারফরম্যান্স দুই দলের জন্যই ম্যাচটিতে ছিল ব্যক্তিগত অর্জনের গল্প। তবে দলীয় সাফল্যের বিচারে শেষ দিনের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপ নিয়েই আবুধাবি টেস্ট শেষ করল টাইগাররা।