ফুটবল ইতিহাস • প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে সতীর্থ! মেসি-রোনালদোকে নিয়ে স্বপ্ন
১২ অক্টোবর ২০২৬, ২:২৭ অপরাহ্ণ
নগদ টাকা কিংবা খুচরা না থাকলেও দৈনন্দিন ছোটখাটো লেনদেন সহজ করতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে সারা দেশে চালু হচ্ছে বাংলা কিউআরের চতুর্থ ধাপ ‘পিটুপি’ (P2P)। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগে রিকশাভাড়া, বাসের ভাড়া, ফুটপাতের দোকানে কেনাকাটা কিংবা ছোট অঙ্কের আর্থিক সহায়তাও ব্যক্তিগত কিউআর কোড স্ক্যান করে পরিশোধ করা যাবে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র লেনদেনকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় এনে নগদবিহীন অর্থনীতিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের জন্য আলাদা মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন হবে না। ব্যক্তিগত কিউআর কোড ব্যবহার করেই রিকশাচালক, বাসের কন্ডাক্টর, ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সবজি বিক্রেতারা টাকা গ্রহণ করতে পারবেন। ফলে প্রচলিত নগদ লেনদেনের বিকল্প হিসেবে সহজেই ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
দৈনন্দিন জীবনে খুচরা টাকার অভাবে প্রায়ই যাত্রী ও বিক্রেতাদের সমস্যায় পড়তে হয়। নতুন এই সেবায় ২৩ বা ৪৭ টাকার মতো নির্দিষ্ট অঙ্কও সরাসরি পরিশোধ করা যাবে। এতে ভাংতি সংগ্রহ, অতিরিক্ত টাকা দেওয়া কিংবা ফেরত পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করার মতো ভোগান্তি কমবে।
বাংলা কিউআরের নতুন ধাপে ছোট অঙ্কের দান ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সুবিধাও রাখা হয়েছে। ব্যক্তিগত কিউআর কোডের মাধ্যমে দুই, পাঁচ বা ১০ টাকার মতো অর্থও ডিজিটালি পাঠানো সম্ভব হবে। এতে নগদ টাকা সঙ্গে না থাকলেও সাহায্যপ্রার্থীদের অর্থ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে ব্যক্তিগত কিউআর কোড ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে। অনুমোদিত ব্যবস্থার বাইরে লেনদেন বা অননুমোদিত ক্যাশআউটের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
নতুন ব্যবস্থায় ক্ষুদ্র লেনদেনকে উৎসাহিত করতে গ্রাহক ও অর্থগ্রহীতার জন্য লেনদেনের মাশুল শূন্য রাখার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, কেউ রিকশাভাড়া হিসেবে ৩০ টাকা পাঠালে অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই সেই অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন এবং চালক পুরো টাকাই পাবেন।
এ ছাড়া গ্রাহকদের সহজে সেবা ব্যবহারের সুযোগ দিতে ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) অ্যাপে বাংলা কিউআর সুবিধা সহজে খুঁজে পাওয়ার ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরাসরি কোড স্ক্যানের পাশাপাশি ফোনের গ্যালারিতে সংরক্ষিত কিউআর কোডের ছবি ব্যবহার করেও লেনদেন করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে বাংলা কিউআরে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৭ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তা বেড়ে দৈনিক গড়ে ১৪৩ থেকে ১৮০ কোটি টাকায় পৌঁছায়। বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এই সেবার আওতায় রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য, ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি আরও বিস্তৃত করে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ তিন হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা। এ লক্ষ্য পূরণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকদের যুক্ত করাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলা কিউআর আন্তর্জাতিক ইএমভি (EMV) মান অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। তবে ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতারণা এড়াতে গ্রাহকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কিউআর কোড স্ক্যান করার পর টাকা পাঠানোর আগে পর্দায় প্রদর্শিত প্রাপকের নাম যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে অর্থ গ্রহণকারীকে নিজের ফোনে আসা বার্তা বা অ্যাপের ব্যালেন্স দেখে টাকা জমা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু অন্যের ফোনে লেনদেন সফল হওয়ার বার্তা দেখে অর্থপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা উচিত নয়।
বাংলা কিউআরের চতুর্থ ধাপ চালু হলে ছোট অঙ্কের লেনদেনে নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমানোর নতুন সুযোগ তৈরি হবে। তবে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং নিরাপদ ব্যবহারের ওপর।