বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
নতুন ইতিহাস •

নিরপেক্ষ ভেন্যুতে প্রথম টেস্ট, নতুন ইতিহাসের সামনে বাংলাদেশ


আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবিতে প্রথমবার নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। এর আগে দুই দলের দুটি টেস্টই হয়েছে বাংলাদেশের মাটিতে। এবার নতুন কন্ডিশনে নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের সুযোগ টাইগারদের সামনে। ম্যাচ শেষে আমিরাতেই জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। ফলে ব্যস্ত সূচিতে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা অপেক্ষা করছে দলের সামনে।

৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ 

নিরপেক্ষ ভেন্যুতে প্রথম টেস্ট, নতুন ইতিহাসের সামনে বাংলাদেশ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

আফগানিস্তানের বিপক্ষে এর আগে দুইবার টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। তবে এবারের লড়াইয়ে যোগ হচ্ছে নতুন এক অধ্যায়। আবুধাবিতে আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া একমাত্র টেস্টের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট ক্রিকেটে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশের জন্য একেবারে অপরিচিত কোনো জায়গা নয়। দেশটিতে এর আগে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলেছে বাংলাদেশ দল। তবে সেসব ম্যাচের কোনোটিই ছিল টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ পরিসরের লড়াই নয়। এবার আবুধাবির মাটিতে সাদা পোশাকে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে আমিরাতে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে।

শুধু ভেন্যুর দিক থেকেই নয়, নিরপেক্ষ মাঠে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতার দিক থেকেও ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ। এখন পর্যন্ত মোট ১১টি দল নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলেছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবির ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশ হতে যাচ্ছে এই তালিকায় যোগ দেওয়া ১২তম দল।

নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে এগিয়ে পাকিস্তান। ১৯৯৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে দেশের বাইরে বিভিন্ন নিরপেক্ষ ভেন্যুতে মোট ৩৯টি টেস্ট খেলেছে তারা। এর মধ্যে ১৯টি ম্যাচে জয় পেয়েছে পাকিস্তান। রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত নানা কারণে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে হোম সিরিজ আয়োজন করতে হয়েছে তাদের। ফলে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা অন্য দলগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।

এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নিরপেক্ষ মাঠে তারা খেলেছে ১৪টি টেস্ট, যার সাতটিতেই এসেছে জয়। পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া ছাড়া আর কোনো দল এখন পর্যন্ত নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ১০ বা তার বেশি টেস্ট খেলতে পারেনি। অন্যদিকে ভারতের অভিজ্ঞতা সবচেয়ে কম মাত্র দুটি টেস্ট।

সেই তালিকাতেই এবার বাংলাদেশের নাম যুক্ত হচ্ছে। যদিও বাংলাদেশের জন্য এটি প্রথম হলেও আফগানিস্তানের কাছে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলার অভিজ্ঞতা নতুন নয়। আফগানিস্তান নিজেদের কিছু হোম সিরিজ দেশের বাইরে আয়োজন করে আসছে। এবারও আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগতিক আফগানিস্তানই।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের আগের দুই টেস্টের স্মৃতিও বেশ বৈচিত্র্যময়। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথমবার মুখোমুখি হয়ে বড় ব্যবধানে হারের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে আফগানিস্তান ২২৪ রানে জয় তুলে নেয়।

তবে চার বছর পর সেই হারের জবাবটা ছিল দারুণ দাপুটে। ২০২৩ সালে মিরপুরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে আফগানিস্তানকে রীতিমতো উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। ৫৪৬ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় টাইগাররা, যা টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের অন্যতম বড় জয় হিসেবে জায়গা করে নেয়। ফলে দুই দলের টেস্ট ইতিহাসে এখন জয়-পরাজয়ের হিসাব সমান একটি করে।

আবুধাবির ম্যাচ তাই দুই দলের জন্যই নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য এটি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে টেস্ট ক্রিকেটের পরীক্ষা। দেশের কন্ডিশনের বাইরে, নিরপেক্ষ মাঠে দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আফগান স্পিন আক্রমণ সামলানোও থাকবে বড় চ্যালেঞ্জ।

একমাত্র টেস্ট শেষ হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতেই ব্যস্ত সূচি রয়েছে বাংলাদেশের। আবুধাবি ও শারজায় জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেবে বাংলাদেশ। টেস্টের মতো এই সিরিজেরও আনুষ্ঠানিক স্বাগতিক আফগানিস্তান।

সব মিলিয়ে আবুধাবির টেস্ট বাংলাদেশের ক্রিকেটে শুধু আরেকটি ম্যাচ নয়। এটি একই সঙ্গে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে দেশের প্রথম টেস্ট, আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এবং আমিরাতের কন্ডিশনে সাদা পোশাকে নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। নতুন এই অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশ কেমন শুরু করে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।