রাজকীয় সমাপ্তি • বিদায়ের ম্যাচে মেসির জাদু, ৩-০ গোলে বেনিনকে হারাল আর্জেন্টিনা
৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
বিশ্বজুড়ে সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে আগামী শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ঘোষণা করা হবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ীর নাম। নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ ঘোষণা দেবে। এবার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট ২৮৭টি মনোনয়ন জমা পড়েছে।
নোবেল কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবারের মনোনয়নের মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে কারা নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন, সেই পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করে না নোবেল কমিটি। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়নসংক্রান্ত তথ্য ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়।
তবে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মনোনয়ন দিয়েছেন, তারা চাইলে নিজেদের মনোনীত প্রার্থীর নাম প্রকাশ করতে পারেন। এ কারণেই এবার বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে আলোচনায় এসেছে। এবারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাম।
আলোচনায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন পোপ লিও। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেস্কা আলবানিজের নামও সামনে এসেছে।
সুদানের গৃহযুদ্ধের মধ্যে বেসামরিক মানুষকে সহায়তা ও সুরক্ষা দেওয়ার কাজে যুক্ত ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস’ও এবার আলোচনায় রয়েছে। যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’-এর নামও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় উঠে এসেছে।
এমনকি বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা আইএসএস-এর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। এবার নোবেল শান্তি পুরস্কারকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে।
কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের কয়েকজন নেতা ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন বলে বিভিন্ন দাবি রয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভূরাজনীতি বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, এবারের পুরস্কারে ট্রাম্পের সম্ভাবনা খুব বেশি নয়। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক, চলমান আন্তর্জাতিক বিরোধ এবং তার পররাষ্ট্রনীতির নানা বিতর্কের কারণে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পিছিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নোবেল কমিটি সাধারণত তাদের সিদ্ধান্তের আগে সম্ভাব্য বিজয়ীদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করে না। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কে পুরস্কার পাচ্ছেন, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
নরওয়ের সংসদ কর্তৃক নিয়োগ করা পাঁচ সদস্যের নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ী নির্বাচন করে।আলফ্রেড নোবেলের ১৮৯৫ সালের উইল অনুযায়ী, জাতিগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা, সামরিক শক্তি কমানো বা নিয়ন্ত্রণ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মনোনয়ন, যাচাই-বাছাই ও আলোচনার পর কমিটি চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম নির্ধারণ করে।
আগামী শুক্রবার বিজয়ীর নাম ঘোষণা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে ১০ ডিসেম্বর। আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে নরওয়ের রাজধানী অসলোতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের সঙ্গে একটি স্বর্ণপদক, মানপত্র এবং প্রায় ১২ কোটি সুইডিশ ক্রোনা বা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের অর্থ দেওয়া হবে। এখন নজর নোবেল কমিটির ঘোষণার দিকে- এবারের অস্থির ও সংঘাতপূর্ণ বিশ্ব পরিস্থিতিতে শান্তির ক্ষেত্রে কার অবদান সবচেয়ে বেশি স্বীকৃতি পাচ্ছে, তা জানা যাবে শুক্রবার।