রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা: দুইজন গ্রেপ্তার, বাড়িতেই গোসল-খেজুর খেয়ে ইয়াবা সেবন
২৫ আগস্ট ২০২৬, ১:৪৬ অপরাহ্ণ
ঢাকার প্রধান সড়ক ও মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। এ নীতিমালার মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচলের নির্দিষ্ট এলাকা ও সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি যানবাহনের মান, কারিগরি সক্ষমতা এবং চালকদের প্রশিক্ষণের বিষয়ও নিশ্চিত করা হবে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকার বড় ও প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল বেড়েছে। এতে মানুষের যাতায়াতে কিছুটা সুবিধা তৈরি হলেও এর পাশাপাশি নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এসব যানবাহনের কারণে যানজট বাড়ছে এবং চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ঘাটতিও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো কারিগরি দিক থেকে কতটা নিরাপদ ও মানসম্মত, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার দ্রুত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবে।
নীতিমালায় কোন এলাকায় এবং কতটুকু ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করতে পারবে, যানবাহনের মান ও কারিগরি সক্ষমতা কেমন হবে এবং চালকদের কী ধরনের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন- এসব বিষয় নির্ধারণ করা হবে। এর মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচলে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপদেষ্টা।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের মৎস্য খাতের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর জর্জ ইনস্টিটিউট স্টেডিয়ামে মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৪ জন মৎস্য পেশাজীবী, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে পদক দেওয়া হয়। মিঠাপানির মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারের অন্যতম প্রধান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ডের দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরুর কথাও জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নে ৪৫৭ জন উপকারভোগীর হাতে কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলতি অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। এ কর্মসূচিতে সরকারের প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।
ফ্যামিলি কার্ডে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, রাষ্ট্রের অনেক অগ্রাধিকার রয়েছে। তবে সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম বড় অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছালে তারা তা দ্রুত বাজারে ব্যয় করবেন। ফলে এর সুফল শুধু উপকারভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; পুরো অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়লে চাহিদা তৈরি হবে এবং এর ভিত্তিতে নতুন ব্যবসা ও শিল্প গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য ব্যয় করা প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা অর্থনীতিতে বহুগুণ প্রভাব তৈরি করতে পারে। এর মাধ্যমে একদিকে পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবন ও আর্থিক নিরাপত্তা বাড়বে, অন্যদিকে অর্থনীতিতে চাহিদা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগও তৈরি হবে।
তিনি জানান, ধীরে ধীরে দেশের প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবার দিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও প্রতিবছর এর আওতা বাড়ানো হবে।