এসএসসি-এইচএসসিসহ পাবলিক পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নে আসছে নতুন নীতিমালা
১৯ আগস্ট ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুদের বড় একটি অংশ জীবনের প্রথম ছয় মাস পর্যাপ্ত মায়ের বুকের দুধ পায়নি এবং অপুষ্টিতে ভুগছিল। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট (বাশিহাই) এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
বুধবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে শিশুদের হাম নিয়ে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল অবহিতকরণ সভায় গবেষণার এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাশিহাইয়ের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান।
গবেষণায় হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩৫৪ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৩ শতাংশের বয়স ছিল ৩ থেকে ৯ মাসের মধ্যে। গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের ৩৮ শতাংশ জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গভাবে মায়ের বুকের দুধ পায়নি। তবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ছিল আরও উদ্বেগজনক। মৃত শিশুদের ৮২ শতাংশই জীবনের প্রথম ছয় মাস পর্যাপ্ত মায়ের বুকের দুধ পায়নি। অর্থাৎ, হাম সংক্রমণের পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টিগত দুর্বলতাও মৃত্যুঝুঁকি বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণার ফলাফলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
গবেষণায় মৃত শিশুদের পুষ্টিগত অবস্থাও বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, মৃত শিশুদের ১২ শতাংশ তীব্র অপুষ্টিতে এবং ৫৩ শতাংশ মাঝারি অপুষ্টিতে ভুগছিল। ফলে শিশুদের পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাম প্রতিরোধে টিকাদান জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।
গবেষণায় বয়স ও টিকা গ্রহণের তথ্যের ভিত্তিতে ৩৪১ শিশুকে চারটি দলে ভাগ করা হয়। নিয়মিত হাম টিকা পাওয়ার বয়স হয়নি- এমন ৯ মাসের কম বয়সী ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জনের, অর্থাৎ ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়। অন্যদিকে টিকা নেওয়ার বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জনের বা ৯৭ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়েছে। এক ডোজ টিকা নেওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জনের বা ৯২ শতাংশ এবং দুই ডোজ টিকা নেওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জনের বা ৭৬ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়েছে।
তবে গবেষকেরা জানিয়েছেন, দুই ডোজ টিকা নেওয়া শিশুদের মধ্যে ৭৬ শতাংশের হাম শনাক্ত হওয়ার ফলকে সামগ্রিকভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। কারণ, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত সব শিশুই সন্দেহভাজন হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। ফলে দুই ডোজ টিকা নেওয়া ২১ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ১৬ জনের হাম শনাক্ত হওয়ার হারটি কেবল এই হাসপাতালভিত্তিক গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
গবেষকেরা বলেন, দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও কিছু শিশুর হাম শনাক্ত হওয়ার কারণ জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। টিকা নেওয়ার পর পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি না হওয়া, সময়ের সঙ্গে অ্যান্টিবডির সুরক্ষা কমে যাওয়া, অপুষ্টি কিংবা ব্যক্তিভেদে অন্য কোনো কারণ এতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব সম্ভাব্য কারণের কোনটি হাম সংক্রমণের জন্য দায়ী, তা বর্তমান গবেষণায় নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানান গবেষকেরা।
গবেষণার ফলাফল থেকে শিশুদের হাম প্রতিরোধে সময়মতো টিকাদান, পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং জীবনের প্রথম ছয় মাস মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে থাকা শিশুদের হাম হলে জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি কমাতে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব রয়েছে। সভায় বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হক সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক কাজী আহমেদ জাকীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।