এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শুরু মঙ্গলবার
১১ আগস্ট ২০২৬, ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৫৭০ জন। স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) আঘাত হানা ভূমিকম্পের পর দফায় দফায় আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এতে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি বিমানবন্দর। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকায় উদ্ধারকাজ চলছে। তবে ভারী যন্ত্রপাতির সংকটে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।
সোমবার সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, কলম্বিয়ায় আঘাত হানা এই ভূমিকম্পকে একবিংশ শতাব্দীতে দেশটিতে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে উল্লেখ করেছে কলম্বিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যাপিটাল সিটিজ। ভূমিকম্পের পর প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে দুর্যোগ মোকাবিলা নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও অংশ নেয় সংগঠনটি। তাদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু পেরেইরা শহরেই ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশটির পাঁচটি রাজধানী শহরে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৮৬টি ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে সাতটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্যালি, পেরেইরা, কুইবদো ও মানিজালেস। প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামাতেও ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। রাজধানী বোগোতা থেকে এলাকাটি প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয় ভূপৃষ্ঠের ১০৭ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ২১টি আফটারশক অনুভূত হয়। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর ক্যালিতে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও তল্লাশি চালাচ্ছেন। স্বেচ্ছাসেবকেরা মানবশৃঙ্খল তৈরি করে কংক্রিটের বড় টুকরো ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ক্যালিতে অন্তত ২০টি ভবন ধসে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ৩৮০টি ভবন। ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ক্যালির ৬৪ বছর বয়সী ট্যাক্সিচালক হোর্হে মোনকায়ো অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ভবনগুলো ধসে পড়ার সময় পুরো শহরজুড়ে ধুলার মেঘ উঠতে দেখেছেন তিনি। তার ভাষায়, এত শক্তিশালী ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা তার আগে কখনও হয়নি।
ক্যালিতে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজে অংশ নেওয়া হুয়ান কার্লোস অসোরিও কারাকোল টেলিভিশনকে বলেন, একটি ভবন ধসে পড়ার শব্দ তার কাছে ‘বোমা বিস্ফোরণের মতো’ মনে হয়েছিল। তিনি জানান, প্রতিবেশীরা একসঙ্গে মানবশৃঙ্খল তৈরি করে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। তবে ধ্বংসস্তূপ সরাতে আরও ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন।
নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা শপথ নেওয়ার মাত্র কয়েক দিন পর এই ভূমিকম্প আঘাত হানায় তার সরকারের সামনে এটি প্রথম বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। মানুষের জীবন রক্ষা, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় স্থানে ত্রাণ পৌঁছে দিতে জাতীয় সরকার তার সব সক্ষমতা কাজে লাগিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার বলেও জানান তিনি।
এর আগে প্রাথমিক হিসাবে ১১১ জন নিহত ও ৮৭ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট। পরে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে পৌঁছায়। পাশাপাশি বহু ভবন ধসে পড়া এবং অসংখ্য বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কফি উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত রিসারালদা এলাকায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। ওই অঞ্চলের রাজধানী পেরেইরায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধসে পড়া ভবনগুলোতে জীবিতদের সন্ধানে এখনও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
ভায়া দেল কাউকা অঞ্চলে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এই অঞ্চলেই ক্যালি শহর অবস্থিত। নিহতদের মধ্যে তিন শিশুও রয়েছে।
এদিকে কলম্বিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পেরেইরা, মানিজালেস, কুইবদো, আরমেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেনতুরার বিমানবন্দর। এসব বিমানবন্দরের অবকাঠামো নিরাপদ কি না, তা পরীক্ষা করছেন প্রকৌশলীরা।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূমিকম্পপ্রবণ ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় কলম্বিয়ায় ছোট মাত্রার ভূমিকম্প প্রায়ই অনুভূত হয়। স্থানীয়ভাবে এসব ভূকম্পন ‘তেমব্লোরেস’ নামে পরিচিত। তবে ৬ মাত্রার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প দেশটিতে তুলনামূলকভাবে বিরল।
এর আগে ১৯৯৯ সালে আরমেনিয়া শহরের কাছে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে এক হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। আর সোমবারের ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটিকে একবিংশ শতাব্দীতে কলম্বিয়ায় রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে জানিয়েছে দেশটির ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা।